বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
শরণখোলায় ১৮ ফুট লম্বা অজগরের পেটে ছাগল, পরে সুন্দরবনে অবমুক্ত নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট থেকে পোস্ট অফিস সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে: ভাঙা রাস্তা, যানজটে অতিষ্ঠ জনজীবন মোরেলগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২৬: র‍্যালি, আলোচনা ও সচেতনতার বার্তা মিসাইল হামলায় নিহত কটিয়াদীর বাচ্চু মিয়ার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী’র সহায়তা প্রদান জগন্নাথপুরে ‘নাগরিক অধিকার সংগ্রাম পরিষদ’র আত্মপ্রকাশ: আহবায়ক এম এ সাত্তার, সদস্য সচিব মহিউদ্দিন বাবলু কবিতাঃ মানুষের মুখ জগন্নাথপুরে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিসভা সিংগাইরে হঠাৎ পরিদর্শনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার পূর্ব জরুরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত- সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন ও ঐক্য জোরদারে গুরুত্বারোপ গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের অভিযানে ভারতীয় পণ্যসহ আটক-৮

*ভালোবাসা আমাদের আত্মা কে পুষ্ট করে*

Coder Boss
  • Update Time : শুক্রবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৪
  • ২০৬ Time View

কলমে: জাসমিনা খাতুন

মাইজুল তার নেড়া শুকনো জমিতে চাষ করতে করতে তপ্ত রোদে ঝলসে যায়। অনুর্বর মাটিকে উর্বর করার জন্য সে অক্লান্ত পরিশ্রম করে। রোদের তীব্রতা তার ত্বকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে যেন তার সমস্ত শক্তি শুষে নিতে চায়।

হঠাৎ, মৃদু এক বাতাসের সঙ্গে ভেসে আসে সদ্য রান্না করা খাবারের মিষ্টি সুবাস। মাইজুলের মন আনন্দে ভরে ওঠে, তার স্ত্রী আমিনা খাবার ও জল নিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসছিল, পাশাপাশি মাঠের কাজে সাহায্য করতেও। আমিনার শাড়ির উজ্জ্বল রঙ শুষ্ক মাঠের বিবর্ণতার বিপরীতে চমৎকারভাবে ফুটে উঠছিল। মাইজুলের ক্লান্তি মুছে যায় মুহূর্তের মধ্যে।

আমিনার হাসি যেন এক তরতাজা আশ্বাস। তার হাতে ধরা খাবার আর জল মাইজুলের তৃষ্ণাকে নিবারণ করল, কিন্তু কিছু খাবার সে পরে খাওয়ার জন্য রেখে দিল। সে আবার কাজে মন দিল, কাজ করতে করতে সময়ের খেয়াল হারিয়ে ফেলে। সূর্য ডুবে গিয়েছে, মাঠজুড়ে লম্বা ছায়া বিস্তৃত।

মাইজুল ফিরে এসে দেখে পিঁপড়ার দল খাবার টুকরো টুকরো করে নিয়ে যাচ্ছে। সে হেসে বলল, “আমিনা, আমাদের অতিথিরা দাওয়াত ছাড়াই চলে এসেছে!”

আমিনা মৃদু হেসে বলল, “তাদের কাজ শেষ হলে আমরা খাবারটুকু ভাগ করে নেব।” দুজনে মিলে হাসি মিশিয়ে পিঁপড়াদের অনুসরণ করল, যতক্ষণ না তারা দিগন্তে মিলিয়ে গেল।

মাইজুলের ক্লান্তি ফিরে এল, কিন্তু আমিনার উপস্থিতি তাকে নতুন করে উদ্যম দিল। তারা হাতে হাত রেখে তাদের জমির দিকে তাকিয়ে থাকল, যেন ভবিষ্যতের উজ্জ্বল ফসলের স্বপ্ন বুনছে।

এমন সময় আকাশে ঈশান কোণের মেঘের হাসি ছড়িয়ে পড়ল, বৃষ্টির ছন্দময় ফোঁটার সঙ্গে মিশে। আকাশজুড়ে পান্নার মতো মেঘ জমে উঠল, যেন প্রকৃতি তাদের নবজীবনের বার্তা দিচ্ছে।

আমিনা খুশিতে দুলছে, তার শাড়ি রঙিন ঘুড়ির মতো আকাশে উড়ছে। বৃষ্টি নেমে এল, যেন তারা ভালোবাসার এক নিখুঁত টেপেস্ট্রি বুনছে।

প্রকৃতি, বর্ষার ছোঁয়ায় পুনরুজ্জীবিত, যেন নববধূর মতো সাজে সেজেছে। গাছের ফুলগুলি ফুটে ওঠে, মিষ্টি সুবাস বাতাসে মিশে যায়। একসময়ের শুষ্ক, অনুর্বর জমি এখন পান্নার ক্যানভাসের মতো সবুজে ঝলমল করছে।

বৃষ্টি থেমে যাওয়ার সাথে সাথে, মাইজুল আর আমিনা সদ্য প্রস্ফুটিত আমগাছের নিচে আশ্রয় নেয়। শাখাগুলি ফুলে সজ্জিত, তাদের ছায়া দেয়। আমিনার চোখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

“এই বৃষ্টি শুধু জমি নয়, আমাদের মনের ভিতরকেও পূর্ণ করে দিয়েছে,” সে বলে।

মাইজুল তার চারপাশে হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির ফোঁটা ছুঁয়ে বলে, “যেমন বৃষ্টি মাটিকে পুনরুজ্জীবিত করে, তেমনি আমাদের ভালোবাসা আমাদের আত্মাকে পূর্ণ করে।”

তারা শান্ত আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে, যেখানে মেঘ সরে গেছে,ভালোবাসা আর হাসির বৃষ্টিতে এক নতুন জীবনের প্রতিশ্রুতি মিশে গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102