সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কবিতাঃ পতি পরমেশ্বর ! জগন্নাথপুরে খেলাফত মজলিস প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদের গণসংযোগ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ডিমলায় প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে প্রশাসনের মত বিনিময় জয়কলস ইউনিয়নে এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলমের ঈগল প্রতীকের গণসংযোগে জনস্রোত জগন্নাথপুরে সর্বত্র গ্যাস সংকট, ফিলিং স্টেশনে অটোরিকশার দীর্ঘ লাইন আমিরাবাদ রিদুয়ান স্মৃতি ব্যাটমিন্টন টুর্নামেন্টর ফাইনাল খেলা সম্পন্ন পাহাড়ি মেয়ে-কবিতা গণভোটে ‘হ্যাঁ’-র পক্ষে প্রচার চালাবে বিকল্পধারা বাংলাদেশ বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস উপলক্ষে ডিমলায় আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোটগত নির্বাচনে ঐক্যের ডাক, লোহাগাড়া এনসিপি- জামায়াতের মত- বিনিময়

কবিতাঃ সবুজপুর

Coder Boss
  • Update Time : শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১০৬ Time View

কলমেঃ মুহিতুল ইসলাম মুন্না

অনেক দিন আগে, বাংলাদেশের এক কোণে ছিলো ছোট্ট একটি গ্রাম, নাম সবুজপুর। গ্রামটি প্রকৃতির কোলে লুকিয়ে ছিলো। চারপাশে ছিলো ঘন সবুজ গাছপালা, টলটলে নদী, ছোট ছোট পাহাড় আর নানান রকম পাখির কলকাকলি। গ্রামের মানুষজন খুব শান্তিপ্রিয় আর প্রকৃতিপ্রেমী ছিল। তারা গাছ লাগাতো, নদী পরিষ্কার রাখতো, পাহাড়-টিলা অক্ষুণ্ণ রাখতো।

গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ হাকিম চাচা সবসময় বলতেন, — “প্রকৃতি আমাদের মায়ের মতো। প্রকৃতির যত্ন নিলে সে আমাদের সুখ, শান্তি আর খাদ্য দান করে। আল্লাহ তাআলা এই প্রকৃতিকে আমাদের জন্য নিয়ামত করেছেন। এই নিয়ামতের যত্ন নেওয়া আমাদের দায়িত্ব।”

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের কিছু মানুষ লোভী হয়ে উঠলো। তারা বন থেকে গাছ কাটতে লাগলো, পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করতে শুরু করলো। নদীর পাশে কারখানা গড়ে তুলে বিষাক্ত আবর্জনা ফেলা শুরু করলো।

এতে গ্রামটা বদলে যেতে লাগলো। গাছ কমে যাওয়ায় পাখিরা পালিয়ে গেলো, হরিণ, খরগোশ, শেয়াল আর নানান প্রাণী নিরাপদ আশ্রয় হারিয়ে লোকালয়ে আসতে শুরু করলো। নদীর পানি শুকিয়ে কাঁদায় পরিণত হলো। গরম বেড়ে গেলো, শীত কমে গেলো। মানুষ আর গরু-ছাগলরা খাবার আর ঠান্ডা ছায়া খুঁজে পেতো না।

এই অবস্থায় একদিন গ্রামের মসজিদের ইমাম সাহেব সবাইকে ডেকে বললেন, — “আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, ‘আমি ভূমি ও তার উপর সবকিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছি।’ (সূরা নাযিয়াত)। আর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘গাছ লাগানো সদকা। কোনো প্রাণী যদি তাতে আশ্রয় নেয় বা খায়, তবে তাও সওয়াব।’ তাই আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।”

হাকিম চাচা, ইমাম সাহেব আর গ্রামের কিছু সচেতন যুবক মিলে সবাইকে বোঝাতে লাগলেন। একদিন গ্রামের ছোট্ট মেয়ে আয়েশা বললো, — “আমি প্রতিদিন একট করে গাছ লাগাবো। তোমরাও কি লাগাবে?”

ওর কথায় সবাই অনুপ্রাণিত হলো। গ্রামে আবার গাছ লাগানো শুরু হলো। সবাই মিলে নদী পরিষ্কার করলো। কারখানার আবর্জনা ফেলা বন্ধ হলো। পাহাড়-টিলা কাটাও বন্ধ করে দিলো।

বছর খানেকের মধ্যেই সবুজপুর ফিরে পেলো তার পুরনো রূপ। পাখিরা ফিরে এলো, নদী আবার টলমলে জলে ভরে উঠলো। শিশুরা ছায়ায় খেলা করতে পারলো।

সবুজপুরের মানুষ শিখলো — “পরিবেশ বাঁচলে আমরা বাঁচব। প্রকৃতির যত্ন নিলে প্রকৃতি আমাদের ভালো রাখে।”

গল্পের শিক্ষা:
পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। গাছপালা, পাহাড়-নদী আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত। এগুলোর যত্ন না নিলে প্রকৃতি অসন্তুষ্ট হয়, আর তাতে আমাদেরই ক্ষতি হয়। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সচেষ্ট হওয়াই মানবিক ও ইসলামী দায়িত্ব।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102