শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
খুলনা আর্ট একাডেমির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি অর্জনে গর্বিত প্রতিষ্ঠান মানবিকতার আলোকবর্তিকা স্পেশাল ব্রাঞ্চের মানবিক সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে ক্লাসিক চেস্ ক্লাবের সম্মাননা কবিতাঃ জীবন কবিতা নিয়ামতপুরে সরস্বতী পূজা উদযাপিত জগন্নাথপুরে গণভোটের পক্ষে উৎসাহিত করলেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক গ্রেটার ইসরায়েল শখ মুছে গেলো! জগন্নাথপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের গণসংযোগ, ভোটারদের ব্যাপক সাড়া বিদ্যুৎ ফাউন্ডেশন: মানবতার আলোর পথে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহবান শোডাউনের মধ্যদিয়ে প্রচারণা শুরু করলেন তুহিন মোরেলগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিপিকে গণসংবর্ধনা, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন- অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম

অধূমপায়ীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কার্যালয় ধূমপানমুক্ত ঘোষণা

Coder Boss
  • Update Time : বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫
  • ১৩২ Time View

 

স্টাফ রিপোর্টার:
পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়কে সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে, তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত জাতীয় নির্দেশিকা অনুসরণ করে টেকসই তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাজেট বরাদ্দসহ একাধিক কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণাও প্রদান করা হয়েছে।

২৩ জুলাই বুধবার, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন প্রাঙ্গণে নারী মৈত্রীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ’নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয় ধূমপানমুক্ত ঘোষণা এবং টেকসই তামাক নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগ গ্রহণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণায় জানানো হয়, সিটি কর্পোরেশন ভবনের অভ্যন্তরে যেকোনো ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয় ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। যাতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আগত সেবাপ্রার্থীদের কেউই পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার না হন।

সেই সাথে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে এবং এই উদ্যোগগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাখতে সিটি কর্পোরেশনের বাজেটে নির্ধারিত বরাদ্দ রাখা হবে বলে তারা জানান। এই বাজেট ব্যবহার করে ধূমপানবিরোধী জনসচেতনতা কার্যক্রম, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে তদারকি, ও স্থানীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারণে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব এএইচএম কামরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ জাকির হোসেন । অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারী মৈত্রী তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরামের আহ্বায়ক শিবানী ভট্টাচার্য। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, নারী মৈত্রী ইয়থ ফোরামের সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এএইচএম কামরুজ্জামান বলেন, “ধূমপানের কারণে যে শুধু ধূমপায়ীই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়, বরং পাশে থাকা অধূমপায়ীরাও সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অধূমপায়ীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সিটি কর্পোরেশন তার নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দায়বদ্ধ—এই দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা আজকের এই ধূমপানমুক্ত ঘোষণার পদক্ষেপ নিয়েছি। ভবিষ্যতে এটি আরও বিস্তৃত আকারে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।”

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “সিটি কর্পোরেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থল। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এখানে যাতায়াত ঘটে। কর্মস্থলে ধূমপানের ফলে অধূমপায়ীরাও পরোক্ষভাবে ক্ষতির শিকার হন। সিটি কর্পোরেশনকে ধূমপানমুক্ত করা গেলে পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে এই মানুষগুলো রক্ষা পাবে। তাই আমরা এই ধূমপানমুক্ত সিটি কর্পোরেশন গড়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ধূমপানমুক্ত ঘোষণার মাধ্যমে আমরা কর্মীদের যেমন সুরক্ষা দিতে পারবো, তেমনি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে অধ্যাপক শিবানী ভট্টাচার্য বলেন, “এই ধূমপানমুক্ত ঘোষণা শুধু একটি কার্যালয়ের সীমাবদ্ধ উদ্যোগ নয়, এর মাধ্যমে একটি বড় সামাজিক পরিবর্তনের শুরু হতে পারে। আমরা আশা করি, এটি শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে এবং ভবিষ্যতে একটি তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথকে ত্বরান্বিত করবে।”

তিনি আরো বলেন, ”তামাকমুক্ত কার্যালয় ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন যে উদাহরণ সৃষ্টি করলো, আশা করি দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।”

অনুষ্ঠানে নারী মৈত্রী টোব্যাকো কন্ট্রোল প্রজেক্টের প্রকল্প সমন্বয়কারী নাসরিন আক্তার মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তামাকের ভয়াবহতা তুলে ধরে জনস্বার্থে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকা ও দায়িত্বের দিকটি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। প্রেজেন্টেশনে তিনি সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ ও তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, বিদ্যমান আইনের পরিপন্থী যেকোনো তামাক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম প্রতিরোধ ও প্রতিহত করা, এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য বেশ কিছু সুপারিশ পেশ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102