শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
খুলনা আর্ট একাডেমির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি অর্জনে গর্বিত প্রতিষ্ঠান মানবিকতার আলোকবর্তিকা স্পেশাল ব্রাঞ্চের মানবিক সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে ক্লাসিক চেস্ ক্লাবের সম্মাননা কবিতাঃ জীবন কবিতা নিয়ামতপুরে সরস্বতী পূজা উদযাপিত জগন্নাথপুরে গণভোটের পক্ষে উৎসাহিত করলেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক গ্রেটার ইসরায়েল শখ মুছে গেলো! জগন্নাথপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের গণসংযোগ, ভোটারদের ব্যাপক সাড়া বিদ্যুৎ ফাউন্ডেশন: মানবতার আলোর পথে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহবান শোডাউনের মধ্যদিয়ে প্রচারণা শুরু করলেন তুহিন মোরেলগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিপিকে গণসংবর্ধনা, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন- অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় নির্বাচন করার সক্ষমতা এখনো দেখাতে পারেনি- মাওলানা আব্দুল হালিম

Coder Boss
  • Update Time : শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৪৭ Time View

 

স্টাফ রিপোর্টার:
জাতীয় ঐক্য জোটের আয়োজনে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নির্বাচন ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। আমরা নির্বাচন চাই কিন্তু সেই নির্বাচন হতে হবে দেশের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেয়ার পর। যদি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেয়া না হয় তাহলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জাতীয় ঐক্য কমিশনের ঘোষিত জুলাই সনদপত্রে স্বাক্ষর করবে কি না ভেবে দেখবে।
তিনি আরো বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নির্বাচনের ফলাফল যদি ঘোষণা করতে তিন দিনের বেশি সময় লাগে তাহলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করতে কত দিন সময় লাগতে পারে। এই সরকার এখনো জাতীয় নির্বাচন করার মত সক্ষমতা তৈরি করতে পারেনি। সরকারকে আগে দেশের প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে, তারপর জাতীয় নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা করবে।
গতকাল শনিবার জাতীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নির্বাচন ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন শীর্ষক জাতীয় সংলাপে জোটের প্রধান সমন্বয়কারী আলহাজ্ব আলতাফ হোসাইন মোল্লার সভাপতিত্বে ও জাতীয় ঐক্য জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ মুসলিম সমাজের চেয়ারম্যান মো. মাসুদ হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয়নেতা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির ডক্টর এ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ গণ আজাদী লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান, দেশপ্রেমিক নাগরিক পার্টির চেয়ারম্যান ও নাগরিক মঞ্চের প্রধান সমন্বয়ক আহসানুল্লাহ শামীম, বাংলাদেশ সংস্কার পার্টির নির্বাহী সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর আমিন আহমেদ আফসারী, কে এম মো. আবু তাহের, জাতীয় ঐক্যজোটের সমন্বয়কারী বাংলাদেশ ছাত্র জনতা পার্টির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. বেলাল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল আহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, এনডিএম এর অর্গানাইজিং সেক্রেটারি ব্যারিস্টার শহিদুল আজিম, বাংলাদেশ ইসলামী দলের মহাসচিব জাতীয় ঐক্যজোট এর সমন্বয়কারী হুমায়ুন কবির, ইউনাইটেড পাবলিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, নাগরিক মঞ্চের উপদেষ্ঠা মো. নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী দল চেয়ারম্যান মুফতি শামসুল হক ফারুকী, বাংলাদেশ মানবিক পার্টির চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন শুভ, বাংলাদেশ ইসলামী সমাজতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান, ডেমোক্রেটিক পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, সুশীল ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ জাহিদ, বাংলাদেশ নিজাম ইসলাম পার্টি চেয়ারম্যান মাওলানা ওবায়দুল হক, ন্যাপ ভাসানী চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ ভাসানী, ইসলামী জনকল্যাণ পার্টির মহাসচিব আনোয়ার হোসেন, জাতীয় ঐক্য জোটের সমন্বয়কারী নাজমুল হক, বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মজুমদার, একামতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা মুফতি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বিন নূরী আল কাসেমী, বাংলাদেশ শ্রমজীবী পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন আব্দুল কাদের জিলানী, স্বাধীন পার্টি চেয়ারম্যান ডাক্তার সম্রাট শাহ জুয়েল চিশতী, জাতীয় ঐক্যজোটের সমন্বয়কারী দেলোয়ার হোসেন, সমন্বয়কারী বিএনজির চেয়ারম্যান আবু আহাদ নূর সহ অর্ধশতাধিক রাজনৈতিক দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দ উপ¯ি’ত ছিলেন।
জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির ডক্টর এ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একতরফা প্রশাসনের নির্বাচন মাগুরা নির্বাচনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে। ৭২’র সংবিধান বাতিল করতে হবে। নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে। দেশের সংস্কার ছাড়া কোন নির্বাচন হলে জনগণ সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। যদি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দেয়া হয়, আর খুনিদের বিচার না হয়, তবে জুলাই যোদ্ধারা রাজপথে নেমে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে। আদর্শ জাতি গঠনে ও কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের চরিত্র গঠনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ প্রদানের দাবী জানান।
জাতীয় ঐক্য জোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে এখনো জাতীয় নির্বাচনের কোন পরিবেশ তৈরি হয়নি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন তার জ্বলন্ত উদাহরণ। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের রেজাল্ট যদি তিন দিনেও প্রকাশ করতে অক্ষম হয় তাহলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন করার আশা কিভাবে করে। আগে দেশের প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। আর এই সংস্কারের জন্য প্রয়োজন সরকারের ভিত্তি সুপ্রিম কোর্টের রেফারেনডম এর মাধ্যমে আপৎকালীন সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম সরকার গঠনের এক মাসের ভিতরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৭২ এর সংবিধান বাতিল করে গণভোটের মাধ্যমে সরকারের ভীত মজবুত করবে ও নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভিত্তি মজবুত করে দেশের সংস্কার করবে। জুলাই আগস্টে ছাত্র জনতার হত্যাকারীদের বিচার করবে। দুঃখের বিষয় সরকার সেখানে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ভারতীয় আধিপত্যবাদের নতুন দোসর একটি রাজনৈতিক দলের কাছে মাথা নত করে সংস্কার বাদ দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা করেছে ও নামকাওয়াস্তে জুলাই সনদ এর একটি খসড়ার মুলা ঝুলিয়ে ছাত্র-জনতার হৃদয়ের রক্তক্ষরণ করেছে। সরকার কে এই হীন মনমানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। অন্যথায় দেশের জনগণ নতুন করে জাতীয় ঐক্যমতে সরকার গঠন করে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যজোটের ৯ দফা প্রস্তাব হলো-

১. জুলাই যোদ্ধাদের কোনো রূপ বিচার, শাস্তি ও তাদের কাজের জন্য অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করা যাবে না।
২. জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো বিরূপ মতামত গ্রহণ করা যাবে না।
৩. জুলাই যোদ্ধাদের হত্যাকারীদের বিচার ও গুম করে আটক, শাস্তি দানকারীদের বিচার ছাড়া নির্বাচন হতে পারবে না।
৪. জুলাই সনদের স্বীকৃতি দান না কারীদের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ ও রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।
৫. জুলাই সনদ কোনো নাগরিক, রাজনীতিবিদ, প্রশাসনের বা সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে কেউ হোক অমান্য করতে পারবে না।
৬. জুলাই সনদে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি বা আদর্শ নির্ধারণ করা। যা ৯২ শতাংশ মুসলমানদের ধর্ম ইসলাম, ইসলামের সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, ইসলামের প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস। সব কর্মের ভিত্তি ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল এবং গণতন্ত্র। সব ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৭. জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সবার চাকরি বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পারিবারিক ভাতা ইত্যাদির ব্যবস্থা রাষ্ট্র গ্রহণ করবে।
৮. শাপলা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও হেফাজতের দাবি মানতে হবে।
৯. পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ন্যায্যবিচার ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এছাড়া রাষ্ট্র সংস্কারে আরও কিছু দাবি তুলেছে জাতীয় ঐক্য জোট। এসব দাবি হলো- লগি বৈঠার তাণ্ডবে মানুষ হত্যা, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বর গণহত্যা, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার। পুরাতন সংবিধান বাতিল। নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মেন্ডেট নেওয়া। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়া। নির্বাচন কমিশনের সংস্কার। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন ১৯৭২ এর ৯০বি ধারা কালো আইন বাতিল।
কালো টাকার মালিক পেশিশক্তি অস্ত্রধারী খুনি-সন্ত্রাসী সাবেক দুর্নীতিবাজ আমলাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা। যাবতীয় নির্বাচনী ব্যয়, পোস্টার, সভা সমাবেশ, নির্বাচনী প্রচারণা, পুলিং এজেন্ট নিয়োগ সংক্রান্ত সব ব্যয় নির্বাচন কমিশনকে বহন করতে হবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসন সংখ্যা থাকবে ৩০০। কোনো উচ্চ কক্ষ নিম্ন কক্ষ প্রয়োজন নেই। ৩০০ আসনে নির্বাচন হতে হবে আনুপাতিক হারে ভোটের মাধ্যমে। নির্বাচনে সব দলকে সমান সুবিধা দিতে হবে। স্থানীয় নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। নির্বাচন কমিশনের লোকবল দিয়ে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। সরকারি কোনো ব্যক্তি রিটার্নিং কর্মকর্তা হতে পারবে না।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102