লেখকঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
আমেরিকা আফগানিস্তান কে বলেছে, "আমাদের "বাগরাম বিমান বন্দর" ফেরত দাও" (সাংবাদিক গোলাম সরোয়ার ইস্তাম্বুল)! বাগরাম বিমান ঘাঁটি বিশ্বের বড় বিমান ঘাটির একটা যা ১৯৫০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন তৈরি করেছিলো। বিমান ঘাটিটা সমুদ্র পৃষ্ঠা থেকে প্রায় ৫ হাজার ফুট উঁচু!
এখানে ২০১৫ সালের ১৫ আগষ্ট মার্কিন সেনারা ও তাদের আফগান পুতুল সরকারের লোকেরা পালানো পর্যন্ত মার্কিন বড় সামরিক ঘাটি ছিলো। বর্তমানে কাতার হচ্ছে মার্কিন সবচেয়ে বড় ঘাঁটি! ফেরত চাওয়া শব্দের অর্থ হলো, আমাদের তালুক আমাদের দাও, কেন চাই, এখান থেকে চায়না মাত্র ঘন্টার পথ, চায়নাকে জব্দ করতে বাগরাম বিমানবন্দর প্রয়োজন! বাদশাহ জহির শাহর আধুনিকতার ছোয়া আফগানিস্তানের ধারে কাছে আমরা নাই, দেশটাকে শেষ করেছে "আমেরিকা" নামক THE GREAT MONSTER ! এমনি ইরাক সিরিয়া লিবিয়া ফিলিস্তিন পাকিস্তান বাংলাদেশ!
পাকিস্তান কে সেলাইন দিয়ে বাচায় রাখে আর আরবীয় মুসলিম ২৪ দেশে সেনা ঘাঁটি করে শাসনে রেখেছে, কেউ স্বাধীন না, সবাই তাবেদার!
প্রিয় পাঠক, তরবারি যুগে "চেঙ্গিস খান" ৪ কোটি মানুষ হত্যা করেছিলো তার ভু আগ্রাসন লিপ্সায়! তখন সারা বিশ্বে মানুষ ছিল ২০/২৫ কোটি মাত্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে সারা বিশ্বে মানুষ হত্যা হচ্ছে প্রত্যক্ষ পরোক্ষ মদদে! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মানুষ মরেছিল ৮ লোটি, মার্কিন আগ্রাসনে তা কি ছাড়িয়েছে? আশির দশকে ৫৪ টা দেশের গনতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক সরকার বা পুতুল সরকার বসাতে চেঙ্গিস খান থেকে বেশি লোক হত্যা হয়েছে! ১৯৭৩ সালে চিলির আলেন্দের কে হত্যা করায় মার্কিন রাস্ট্র দূত "ফিলিপ চেরি", যাকে ক্ষমতায় বসায় সেই সামরিক জান্তা " পিনাচোট" ৬০ লক্ষ লোক হত্যা করেছিলো! আমেরিকা হাঁচি ও দেয় নাই। ঐ রাষ্ট্র দূত "ফিলিপ চেরিকে" কিসিঞ্জার বাংলাদেশে বদলি করে এনে ১৯৭৫ সালে মুজিব কে হত্যা করায়, বাংলাদেশের হত্যা কি আজ-ও বন্ধ হয়েছে, শান্তি ফিরে এসেছে?
১. বাংলাদেশের সমস্যা হলো ধর্মহীন অধার্মিক রা যারা কুরআনের পথের মুসলমান না,
২. শিক্ষিত মুর্খরা যারা একাডেমিক সনদ তো জোগাড় করেছে কিন্তু জ্ঞান, আই-কিউ জিরো! তারা জানে না what is Revolution, Democracy, Independence, Patriotism, Development of the country ? আমার খুব কাছের এক শালিকা, অধ্যাপক, গতকাল আমাকে বলেছে, "আপনারা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন!" এই মুহূর্তে বাংলাদেশ কেমন আছে তা বোঝার জ্ঞান তাকে সৃষ্টি কর্তা দেন নাই! আসলে আমি যা লিখি তা পতিতা-দের জীবন, বিদেশি আগ্রাসন, বিশ্ব যুদ্ধ আগত প্রায়, দেশ নিয়ে তো লিখি না? কোন দেশ নিয়ে লিখবো? কি লিখবো? দেশের নির্বাহী প্রধান উপদেষ্টা, বাকী সবাই রাষ্ট্রের কর্মচারী, নির্বাহী যা করবেন তাই চুড়ান্ত, বাকী যা শুনি তা প্রপাগাণ্ডা!
১২ শতকের শেষ দিকে একজন বখতিয়ার খিলজি বাংলার হিন্দু শাসক লক্ষ্মণ সেন কে পরাজিত করেন এবং নবদ্বীপ দখল করে সপ্তাহ খানেক লোকজন নিয়ে সোনাদানা হিরাজহরৎ লুঠপাট করে ফিরে আসেন। লক্ষ্মন সেন বিক্রমপুর রাজধানী তে ফিরে এসে দেশ শাসনে মন নিয়োগ করেন।১৩ শতক পর্যন্ত তার উত্তর সূরিরা বাংলা শাসন করেছেন! বখতিয়ার একটা পতাকা ওখানে (নবদ্বীপে) পুঁতে চলে যান কিন্তু বাংলা বিজয় তকমা পেয়ে যান। বিশ্বের বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিহারের নালান্দা পোড়ায় দেন যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কমপ্লেক্স কিছুটা পুরাতন ক্ষয়ে গেছিলো। লক্ষাধিক বইয়ের লাইব্রেরি পোড়ানোর কি দরকার ছিলো, পুরা বৌদ্ধ বিহার ধ্বংস করার ই বা কি দরকার ছিলো, তথ্য ইতিহাস মিনহাজ ই সিরাজ ও বর্তমান গবেষণা! ১২০৬ সালে তিব্বত আক্রমণে পরাজিত ও নিজ অনুচরের হাতে হত্যা।
আর একজন সুলতান মাহমুদ, গজনী! তিনি সোমনাথ মন্দির ১৩ বার ধ্বংস করেছেন হাজার দশকে। ইসলাম ধর্মে কোন উপসনালয় ভাঙতে নিষেধ করা হয়েছে! সব ধর্মে এমন নিষেধ আছে তবুও বাবর মন্দির ভেঙে মসজিদ করেছিলেন আবার আদভানিরা বাবরি মসজিদ ভেঙেছে!
ধর্মের বড়াবাড়ি এবং হুমকি ধামকি পূর্বযুগের মত ট্রাম্প প্রশাসনে সারা বিশ্বে চালিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করছেন, বুঝাতে এগুলোর অবতারণা করলাম!
প্রিয় পাঠক, আফগানিস্তানের কাছে বিমানবন্দর চেয়েছে, বাংলাদেশের কাছে সেন্ট মার্টিন, করিডোর, চিটাগং সমুদ্র বন্দর, ফিলিস্তিনের কাছে গাঁজা চেয়েছে পর্যটন কেন্দ্র করবে, আবার আরকান বাংলাদেশ মিলে একটা দেশ বা পার্বত্য চট্টগ্রাম বান্দর বন, আরকান নিয়ে একটা খৃষ্টান রাষ্ট্র, বা ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ভারত ভীত,
সৌদি আরব পাকিস্তান সামরিক চুক্তি কার নির্দেশে? কার স্বার্থে সৌদি আরব ইয়েমেন হুতিদের ছোড়া মিশাইল ইসরায়েলের আগেই আয়রন ডোমে ভূপাতিত করলো? আজ পর্যন্ত গত দু'বছরে ফিলিস্তিনে ৬৫ হাজার মুসলমান হত্যা হয়েছে, হযরত মুহাম্মদ সঃ এর দেশ কথা বলে না কেন?
সেই যে জো বাই ডেন স্যার বলেছিলেন,"আমার কথা তুমি যদি না শোন যুবরাজ সালমান, তোমার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে তুরস্ক বিমানবন্দরে সাংবাদিক খাসোগি হত্যার মামলা তুলবো! তখন যুবরাজ পাত্তা দেন নাই কারন আমেরিকা এতটা মুসলমান বুকে আসন গেড়ে বসতে পারে নাই, কারন সিরিয়ায় ছিলেন বাশার আল আসাদ এবং বাংলাদেশে ছিলেন শেখের বেটি হাসিনা! আজ খোলা মাঠে ট্রাম্প স্যার ছক্কা হাঁকাচ্ছেন! তার পালক পুত্র ইসরায়েল গত দু'বছরে ছয়টা মুসলিম দেশ আক্রমণ করেছে, শেষ আক্রমণ "কাতার" এবং পরবর্তী টার্গেট "তুরস্ক"! তুরস্কে হামাসের সদর দপ্তর, সিরিয়ায় ও তুরস্ক প্রতিপক্ষ! তুরস্ক ন্যাটোভুক্ত দেশ তাতে কি " এরদোয়ান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ না!
এদিকে রাশিয়াকে ব্যস্হ রাখছে ইউক্রেন যুদ্ধে, নতুন ভাবে ন্যাটো যুদ্ধ করতে পারে সেই ফিল্ড তৈরি করতে পোল্যান্ড রুমানিয়া সীমান্ত সৈন্য সমাবেশ করায় রাশিকে উস্কে দেয়া হচ্ছে। রাশিয়া একঝাক ড্রোন পাঠিয়ে পোল্যান্ড রুমানিয়া কে বুঝিয়ে দিয়েছে, "Nothing would go without challenge ! " বাংলাদেশ বর্ডারে কে বা কাহারা সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ দিয়ে ভারত কে উস্কানো হচ্ছে! ভারত কে শিক্ষা দেয়ার ইচ্ছে!