কলমেঃ সাহেলা সার্মিন
খুব কষ্ট লাগে –
যখন দেখি ষাট সত্তরোর্ধ্ব মানুষ
ক্ষুন্নিবৃত্তির জন্য রিক্সা চালায়
মুটে মজুর খাটে,
পা চলেনা,ঠির ঠির করে কাঁপে
অর্ধমৃত দেহখানি নিয়ে দোজখ খাটে!
জোয়ান ছেলে ঘরে, কারোর বা মস্ত অফিসার
অথচ দুয়ারে দুয়ারে হাত পাতে।
হাড্ডিসার কোটরাগত অক্ষিযুগল
ভুখায় কাটে যাপিত জীবন।
বড় কষ্ট লাগে –
যখন দেখি সর্বস্ব খুইয়ে
আদরের মেয়েকে পাঠায় শ্বশুর বাড়ি,
রক্ত ঝরিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে
তিল তিল করে মানুষ করা মেয়ে
যৌতুকের বলি হয়ে আবার ফিরে আসে!
সেই অসহায় বাবার করুণ মুখ খানি দেখে
বড় কষ্ট লাগে!
খুব কষ্ট লাগে –
যখন দেখি ডাক্তার অধ্যাপক বধূ
হেঁসেল ঠেলেও রেহাই পাচ্ছে না,
পারছেনা ইচ্ছে মতো দু’পয়সা খরচ করতে।
মধ্য যুগে গুণ টানা নৌকার মতো,
ঘুড়ির লাটাইয়ের সুতোটা স্বামীর হাতে!
অফিস আর গৃহকর্ম দুটো সামলাতে হিমসিম
তার ওপর অধিকার ফলানোর তকমা!
বড় কষ্ট লাগে –
যখন দেখি পেটের সন্তানের অবাধ্যতা
রক্তচক্ষু আর গোয়ার্তুমি,
"কি জানো তুমি, চুপ করো?" এইসব শব্দ
ভীষণ কষ্ট দেয় আমাকে! দুচোখের নহর বয়
হায়রে আজকালকার সন্তান!
মা-বাবাকেই শেখায়
যেনো তারাই উর্ধ্বতন।
খুব কষ্ট লাগে –
যখন দেখি শিক্ষাঙ্গনে ছেলেমেয়েদের হাতে
রামদা, পিস্তল, চাইনিজ কুড়াল
ফালাফালা করে কারো বুকের ছাতি
মায়ের আর্তচিৎকারে টলেনা এদের মন!
বড় কষ্টে অবুঝ হয়ে যাই আমি
শিক্ষকের গলায় ওঠে যখন জুতার মালা
গায়ে হাত ওঠে অবলীলায়!
কষ্ট লাগে যখন দেখি –
অফিসে হাসপাতালে স্বজনপ্রীতি,
অসহায় আর্ত দাঁড়িয়ে আছে ধ্বর্ণা ধরে
ঘণ্টার পর ঘণ্টা, সৌজন্যতা নেই কোনো,
সরকারি ঔষধ ও খাটো তার হাতে।
পেনশনের ফাইল সরেনা বাম হাত না হলে,
নৈতিক অবক্ষয়ের চরম সীমায় খাবি খাচ্ছে জাতি!
আমরা কি শুধরাবোনা কোনোদিন ?