কলমেঃ শামীমা বেগম
বুকে বানিয়েছি বাহান্ন মেহগনি— স্মৃতির গূঢ় দরোজা,
যেখানে প্রিয়তম দিনেরা ঘুমায়, মৌনতা মোড়ানো সাজা।
হাসির যে রঙ, নীলিমা ছুঁয়ে খেলে ছিলো হাওয়ার ডানা,
সে-সব এখন ছায়ায় জড়ানো, দোলে কেবল অন্তরখানা।
চোখ দুটি যেন নীল জলরাশি— ভাসে স্বপ্ন নীরব স্রোতে,
তলিয়ে যাই নির্বাক ব্যথায়, প্রেমের ভাষা ব্যথায় জ্বলে।
স্পর্শ যেন চঞ্চল শিখা— এক টোকাতেই জ্বলে প্রাণ,
সেই ছোঁয়াতে হৃদয় বলে নিঃশব্দ কবিতার গান।
ওই আলমারি— তপ্ত কাঠে আগুন নিঃশ্বাস লুকায়,
প্রতিটা কক্ষেই আবেগ ঢেলে নিঃসঙ্গ ছায়া শুকায়।
খুলি না তাদের, তবুও রাতের নিস্তব্ধ অভিজানে,
ওরাই যেন জেগে ওঠে— স্মরণ চুরির টানে।
আছে এখনো, ভালোবাসা, ব্যথা, বিস্মৃত কিছু হাসি,
সবকিছুর ঠাঁই ঐ কাঠঘরে— অতীতের রঙিন ফাঁসি।
আমি শুধু পাহারাদার, নিঃশব্দ এক নৈঃশব্দ ভর,
বাহান্ন আলমারির নিচে, লুকানো জীবনসর।