
কলমে: ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
পঞ্চাশোর্ধ একাকিত্বে আমি, কারো মা, বৌদি, দাদি
আমার জীবন কি শেষ, নারী জীবন কি পঞ্চাশ অবধি?
আমি বলি, আজ কেবল শান্ত স্বাধীন ভাবে ভালোবাসতে শিখলাম
সেই ব্যাঞ্জনা রসায়ন আজ আমার জীবন ডাইরিতে লিখলাম!
সুযোগ পেলাম গড়ার, নিজের জন্য আলাদা এক পৃথিবী
আমার প্রতি কারো নাই অযাচিত অনাহুত যখন তখন দাবী!
সারাটা জীবন সংসার, সন্তান, সেবা, হেঁশেল দায়িত্বে ছিলাম বন্দী
মনে হয়, আজ আমি মুক্ত আকাশের বিহগী, নিজের সাথে নিজের সন্ধি!
নিজের দিকে ফিরে তাকানো, আয়নায় চেহারা দেখার পেয়েছি সময়
কেউ নেই করে শাসন বারন, কাউকে আজ ধরি না গোনায় !
বয়স ষোল বিশে দেখেছি স্বপ্ন, তিরিশ চল্লিশ সন্তান নিজ পায়ে দাড়াতে গড়েছি তাদের সংসার পঞ্চাশোর্ধ জীবনের সবটুকুই দিয়েছি তাদের, আমার আজ একটু শ্বাস নেয়া দরকার!
নারী জীবন শৃঙ্খলিত, কিন্তু দন্ডপ্রাপ্ত আসামীর বন্দী সেল নয়
একটা খোলা বারান্দা একদিন দরকার, যেখানে ‘টবে’ সুগন্ধি ফুল, ঘ্রাণের নাই ক্ষয়!
কবিতা লিখবো, পান্ডুলিপি ছিড়বো, প্রয়োজনে কারো হাত ধরে পাশে বসবো
ফুসকো, চটপটি খাবো, কফি নিয়ে ছাদে হাটবো, প্রাণ খুলে দু’জন হাসবো!
হঠাৎ বৃষ্টি এলে ভাদ্রের বৃষ্টিতে আদুল গায়ে ভিজবো
প্রয়োজনে নতুন আগন্তুক নিয়ে, ছাদবাগানে একটু আড়াল খুঁজবো!
জীবনটা একদিন ভাগ করে দিয়েছি, শ্বশুর শ্বাশুড়ি স্বামী সন্তান দেবর ননদ
আজকের সম্পর্কে বড় কোন প্রতিশ্রুতি না-ই, না-ই বাচ্চা পালন, শাসন বারন, বলুন সবটাই কি গলদ?
মানবজীবনে সকাল দুপুর সন্ধ্যা রাত, কভু হয়না
মনটা সে-তো সদা ষোড়শী, কখন সে কি ধরে বায়না?
আজ-ও কেন করবে শাসন, অযাচিত জন, অপ্রয়োজন
ছিঁড়বে কেন কবিতার খাতা, বলবে যা-তা, হচ্ছে-না ঠিক বাচ্চা পালন?