কলমেঃ চন্দনা রানী
আমি কন্যা...
আমি শুধু ফুলের মতো নই,
আমি আগুন,
আমি শীতল নদীর স্রোতের ধারাও কথা কই।
আমি ভালোবাসার প্রাণকেন্দ্র,
আমি প্রতিবাদের ধারালো হাতিয়ার।
আমি কুসুমের মতো কোমল,
আবার বজ্রের মতো তীব্র তলোয়ার।
আমি খেলার পুতুল নই —
যে মন না চাইলেই ছুড়ে ফেলে দেবে,
আর ইচ্ছেমতো কাছে টেনে নেবে!
আমি দু'চোখে দেখি মহাকাশের স্বপ্ন।
দিনের পর দিন...
আমি গড়ি আমার নিজের পরিচয়।
আমি ডাক্তার হতে পারি, কিংবা কবি,
আমি শুধু সাঁজঘরের নয় —
রাজপথেও গর্বে দাঁড়াতে পারি!
কে বলেছে আমি দুর্বল?
আমি নিঃশব্দ বজ্রপাত!
চাইলেই মুহূর্তে বদলে দিতে পারি —
বছরের পর বছর জমে থাকা
ক্ষতচিহ্ন আর কলঙ্কিত রাত।
আমি শিখে গেছি —
কীভাবে নীরবে কাঁদতে হয়,
চোখের কোণে জল লুকিয়ে রেখেও
জোরে জোরে হাসতে হয়।
আমি কন্যা...
থাকি অনেক সময় শেকলে বাঁধা,
তবুও আমি নাচি, আমি গান গাই,
আমি উড়ে বেড়াই মুক্ত আকাশে!
কারণ...
আমার ডানায় ভর করে
উড়ে যায় আগামী প্রজন্মের প্রজাপতি।
আমি কন্যা --
তাই বলে কেন ভীতু হয়ে নত শিরে পুরুষের পদতলে থাকব?
আমি কন্যা
তাই বলে কি সব অন্যায় অবিচার সইবো?
আমি কন্যা বলে,কত কাপুরুষ
আমাকে দিনের পর দিন নির্যাতন করে?
কেড়ে নেয় মুখের অন্ন।
আমি কন্যা বলেই কি সব অধিকার থেকে
পুরুষের কাছে ভিন্ন?
আমি কন্যা —
আমি প্রশ্ন করি, আমি উত্তর খুঁজি,
আমি শুধু “মিষ্টি মেয়ে” নই —
আমি দাবি করি সম্মান,
আমি দাবি করি সমান অধিকার।
আমি চিৎকার করে কাঁদি না বলে
ভুলে যেও না আমায়...
আমি কন্যা —
আমি শুধু এক দিনের আলো নই,
আমি চিরকাল।
চোখে আমার স্বপ্নের জল,
তবুও হেসে যাই প্রতিদিন নির্ভীক, অবিচল।