কলমেঃ মমিনুল পথিক
মেঘমুক্ত নির্মল আকাশ হতে চাঁদ যেন
রজত ধারা ছড়িয়ে দেয় ঘুমন্ত ধরিত্রীর বুকে।
ঝলমলে সোনালী আলোয় হেসে ওঠে প্রভাত।
কোমল স্নিগ্ধতায় পরশ বুলিয়ে দেয় মরা কার্তিকে।
ফসলের মৌ মৌ গন্ধে মায়ের মমতায়
পূর্ণ হয় প্রকৃতি, নেচে ওঠে নির্মল আনন্দে।
যেন নারীর এক অনির্বচনীয় কল্যাণময় রূপশ্রী।
চিরায়ত বাংলার ঘরে হাজির হয় নবান্নের উৎসব।
শীতের আগমনী বার্তা ধ্বনিত হয় মৃদুমন্দ হাওয়ায়।
গাছে গাছে পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত হয় চারিদিক।
বিলে ঝিলে কলমি ও শাপলার মন কাড়া সৌন্দর্যের হাতছানি।
সবুজের বুকে মুগ্ধতার ঘ্রাণ ছড়ায় আকাশ মনি।
আছে বৈরাগ্যের সুগভীর বিষণ্নতাও।
শুকিয়ে আসে খাঁড়ি, নদী-নালা, জলাশয়।
বকের আনাগোনা, মাছের দীর্ঘশ্বাস।
মগ্ন থাকে ধোঁয়াটে কুয়াশার আবরণে নিঃসঙ্গ সাধনায়।
নেই সৌন্দর্যের জৌলুস। সূর্যাস্ত যায়, শান্ত সন্ধ্যা নামে।
গোধূলির রক্তিম আলোয় পাখিরা ঘরে ফিরে।
সময় ভেঙ্গে আসে রাতের নিরবতা।
এভাবেই রূপের রানী হেমন্তের পদচারণা।