শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
খুলনা আর্ট একাডেমির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি অর্জনে গর্বিত প্রতিষ্ঠান মানবিকতার আলোকবর্তিকা স্পেশাল ব্রাঞ্চের মানবিক সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে ক্লাসিক চেস্ ক্লাবের সম্মাননা কবিতাঃ জীবন কবিতা নিয়ামতপুরে সরস্বতী পূজা উদযাপিত জগন্নাথপুরে গণভোটের পক্ষে উৎসাহিত করলেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক গ্রেটার ইসরায়েল শখ মুছে গেলো! জগন্নাথপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের গণসংযোগ, ভোটারদের ব্যাপক সাড়া বিদ্যুৎ ফাউন্ডেশন: মানবতার আলোর পথে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহবান শোডাউনের মধ্যদিয়ে প্রচারণা শুরু করলেন তুহিন মোরেলগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিপিকে গণসংবর্ধনা, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন- অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম

কানে বিষ ঢুকলে, তার কোনো চিকিৎসা নেই!

Coder Boss
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৮ Time View

 

লেখক: মোঃ নুর ইসলাম মৃধা

খাবারে বিষ ঢেলে দিলে আমরা সবাই ভয় পাই। কারণ শরীরে বিষ ঢুকলে মৃত্যু অবধারিত হতে পারে। কিন্তু সেই বিষের প্রতিষেধক আছে, আছে চিকিৎসা, আছে ডাক্তার। কেউ অসুস্থ হলে তাকে বাঁচানো সম্ভব। কিন্তু যদি বিষটা কানে ঢোকে? অর্থাৎ, যদি কেউ কারও কানে ভুল কথা, অপবাদ, গুজব, বিদ্বেষ বা ঘৃণার বিষ ঢেলে দেয়—তাহলে তার কোনো ওষুধ নেই, কোনো ডাক্তার নেই, কোনো চিকিৎসাও নেই!

খাবারে ঢোকা বিষ শুধু শরীরকে মারে, কিন্তু কানে ঢোকা বিষ মেরে ফেলে সম্পর্ক, বিশ্বাস, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা—সবকিছু। সমাজের সবচেয়ে ভয়ানক বিষ এটাই, যা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু হৃদয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।

আজকের সমাজে আমরা দেখি—গুজব, অপবাদ আর ভুল ব্যাখ্যার ঝড় চলছে চারদিকে। কেউ কোনো কথা যাচাই না করেই ছড়িয়ে দেয়, কেউ না জেনেই বিশ্বাস করে, কেউ না ভেবেই বিচার করে ফেলে। এক কান থেকে আরেক কানে বিষ ছড়াতে সময় লাগে না, কিন্তু তার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে লাগে বছর—কখনও হয় না আদৌ।

খাবারে বিষ দিলে মানুষ হাসপাতালে যায়, কিন্তু কানে বিষ ঢুকলে মানুষ যায় বিভ্রান্তিতে।
এই বিভ্রান্তি থেকে জন্ম নেয় ঘৃণা, বিভেদ, অবিশ্বাস। পরিবার ভাঙে, বন্ধুত্ব শেষ হয়, সমাজে নেমে আসে অস্থিরতা। অথচ এই কানের বিষ ঠেকানোর উপায় আছে—সচেতনতা।

আমাদের শিখতে হবে কথা শোনার আগেই যাচাই করতে। জানতে হবে, যিনি বলছেন, তিনি কি সত্যিই নির্ভরযোগ্য? তথ্যটি কি প্রমাণিত? আমরা যদি একবার সন্দেহের বদলে যাচাই শিখি, তবে সমাজে কানে বিষ ঢোকানোর সুযোগই থাকবে না।

মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেরও দায়িত্ব আছে।
অযাচিত সংবাদ, ভিত্তিহীন মন্তব্য, গুজব—এসব যেন ছড়াতে না পারে, সে বিষয়ে কড়া নৈতিকতা ও নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। প্রতিটি মানুষকেই জানতে হবে, মুখে বা পোস্টে দেওয়া একটি কথাও কারও জীবনে বিষের মতো প্রভাব ফেলতে পারে।

নেতৃত্ব ও বুদ্ধিজীবীদেরও সচেতন থাকা দরকার।
তাদের একটি ভুল মন্তব্য, বা অপ্রমাণিত তথ্য, সমাজে বড় সংকট তৈরি করতে পারে। তাই তাদের মুখে থাকা প্রতিটি শব্দের ওজন থাকা উচিত—সত্যের ও নৈতিকতার ভিত্তিতে।

সবশেষে, সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের শিখতে হবে—ক্ষমা করা, যাচাই করা, এবং অন্যের সুনাম রক্ষা করা। এই তিন গুণই কানের বিষের প্রতিষেধক।

খাবারে বিষ ঢেলে দিলে আমরা দৌড়ে যাই চিকিৎসকের কাছে। কিন্তু কানে বিষ ঢুকলে? তখন আমাদের যাওয়া উচিত বিবেকের কাছে, সত্যের কাছে, মানবতার কাছে।
কারণ—
খাবারে ঢোকা বিষ মারে দেহকে,
আর কানে ঢোকা বিষ মারে আত্মাকে।

 

লেখক পরিচিতি:
মোঃ নুর ইসলাম মৃধা
এম.এ, এল.এল.বি, এল.এইচ.এম.পি
গবেষক ও কলাম লেখক।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102