সাইফ উল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ভাটাপাড়া পর্যন্ত রাস্তা পাকাকরণ ও রাস্তার দুই পাশে সিসি ব্লক নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
ঠিকাদার এ কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে যেনতেনভাবে কাজ চালিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেনা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই ঠিকাদার এমন অনিয়ম করে যাচ্ছে।
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থ হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ধর্মপাশা উপিসি, বাদশাগঞ্জ বাজার ভায়া মহিশেরকান্দা বাজার পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ ও দুই পাশে সিসি ব্লক বসানোর জন্য ২৮ কোটি সাড়ে ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। আর এ কাজের দায়িত্ব পান কিশোরগঞ্জের হামীম ইন্টারন্যাশনাল এন্ড চ্যালেঞ্জার (জেভি) নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজটি চলতি বছরের ১৩ মার্চ শুরু করে ২০২৬ সালের ১৪ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ এ কাজের শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অনুসন্ধ্যানে দেখা যায়, ঠিকাদার স্থানীয়দের চোখ এড়াতে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার কচুয়ারচর এলাকায় কংস নদের তীরবর্তী একটি জায়গা ভাড়া নিয়ে ভিট বালু ও নিম্নমানের সিঙ্গেল পাথর দিয়ে সেখানে ব্লক তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সপ্তাহ খানেক আগে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন সেখানে গিয়ে এ কাজে ব্যবহৃত প্রায় ২৫-৩০ হাজার ঘন ফুট নিম্নমানের সিঙ্গেল পাথর দেখতে পান এবং ওইসব নিম্নমানের পাথর সেখান থেকে অপসারণের জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায় প্রকৌশলীর নির্দেশ অমান্য করে ঠিকাদার ওইসব নিম্নমানের সিঙ্গেল পাথর ও ভিট বালু ব্যবহার করেই জোরেসুরে ব্লক তৈরীর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে, এরই মধ্যে ঠিকাদার বাতিলকৃত প্রায় ২০ হাজার ঘন ফুট নিম্নমানের সিঙ্গেল পাথর ও ভিট বালু দিয়ে ৯০ হাজার ব্লকের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার ব্লক তৈরী করেছেন।
মোহনগঞ্জের কচুয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর মিয়া ও হাবিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাজটি অন্য উপজেলার হওয়ায় আমরা প্রতিবাদ করতে পারছিনা। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে যেভাবে কাজ করছে তা আমাদের উপজেলার কাজ হলে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করে অবশ্যই কাজটি বন্ধ করে দিতাম।
ধর্মপাশা উপজেলার প্রকল্প এলাকা সংলগ্ন খয়েরদিচর গ্রামের বাসিন্দা ও সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল বারেক বাক্কি বলেন, শুরু থেকেই ঠিকাদার এ কাজে নিম্নমানের পাথর ও বালু ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু প্রতিবাদ জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, মূলত ঠিকাদার এ কাজের দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদেরকে মোটা অংকের পার্সেন্টিস দিয়েই এভাবে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়েই এ কাজটি করে যাচ্ছে।
একই ধরনের মন্তব্য করেন, একই এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য শামসুদ্দিন, কাজী নিজাম উদ্দিন, মজিবুর রহমান মজুমদার, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমানসহ আরও অনেকেই।
অভিযোগের ব্যাপারে ঠিকাদারের স্থানীয় প্রতিনিধি ক্ষিত্তিবাস দাসকে ফোন করা হলেও তিনি এ ব্যাপারে পরে কথা বলবেন বলে জানান। কিন্তু পরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে এ কাজে ব্যবহৃত প্রায় ২৫-৩০ হাজার ঘন ফুট নিম্নমানের সিঙ্গেল পাথর দেখতে পেয়ে ঠিকাদারকে তা ব্যবহার করতে নিষেধ করেছি। পরবর্তীতে ওইসব সিঙ্গেল পাথর যাচাই-বাছাই করে ব্লক তৈরীর উপযোগী মনে হওয়ায় ওইসব পাথর ব্যবহারের জন্য ঠিকাদারকে অনুমতি দেই। তবে তারা এ কাজের সার্বক্ষণিক তদারকি করে যাচ্ছেন বলেও তিনি জানান।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলার পাশাপাশি বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।