ঘুরতে গিয়ে থমকে দাঁড়ালেন মিলন
পথের ধারে কাত হয়ে থাকা এক পোস্ট বক্স,
গোলাপি রঙে মলিন তার গায়ে
লিখা শুধু “ডাকা, খুলনা”যেন পুরনো ইতিহাসের ডাক।
মাটিতে হেলে, ধুলোয় মাখা,
কখনো যে বুক ভরে নিত চিঠির ভিড়,
ভালবাসার কথা, কান্নার গল্প,
যাত্রার খবর, কিংবা জীবনের শেষ বিদায়ের নিঃশ্বাস
সবই এনে দিত মানুষের দোরগোড়ায় নির্ভয় নির্ঝর শান্তির মতো।
ছাত্র সাগর ফকির পাশে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে দেখে,
গুরু যেন স্মৃতির সাগরে ডুবে রয়;
হাতে স্পর্শ করে মিলন বলেন ধীরে
তুমি ছিলে মানুষের হৃদয়ের সেতুবন্ধন,
আজ পড়ে আছো অবহেলায় যুগের অবমূল্যায়নে লয়।
চিঠিবাক্সটি তখনো চুপচাপ,
কিন্তু তার ভিতরে যেন লুকানো দুঃখের শব্দ
যার উপরের ফাঁক দিয়ে
এক সময় উড়ে যেত হাজারো চিঠি,
নীচের লক দরজা দিয়ে
ডাকবাহক কুড়িয়ে আনত মানুষের আশা-প্রশ্বাস।
মিলন বলেন
“যেমন যৌবন ফুরালে মানুষ হারায় মূল্য,
তেমনই কালের ফেরে তোমারও কমেছে মান;
কিন্তু আমি তোমাকে ভুলিনি আজও,
আমার শিল্পমনে তুমি আঁকা
প্রেমের রঙে, স্মৃতির টানে,
থাকবে আমার হৃদয়ে আজীবন।”
সাগর তখন দেখে গুরুজীকে
এক পুরনো পোস্ট বক্সের সামনে দাঁড়িয়ে
সময়ের ক্ষয়কে শিল্পে রূপান্তর করছেন,
প্রতিটি আবেগকে তুলির মতো সাজিয়ে
শব্দে দিচ্ছেন জীবন।
হাওয়ায় দুলে ওঠে সেই কাত হওয়া বাক্স,
মনে হয় যেন সে ও শুনছে শিল্পীর কণ্ঠ
মানুষের ভালোবাসা তুমি বহন করেছিলে যুগের পর যুগ,
আজও তুমি আমার কাছে চিঠির মতো প্রিয়,
মনের সিন্দুকে রাখা এক অমূল্য স্মৃতির ঢেউ।
রচনা কালঃ২৬-১১-২০২৫