লেখকঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
২১শে নবেম্বর ২০২৫, ৫.৭ রিএক্টর স্কেলের ভুমিকম্প বাংলার জনগণের মানসিক শান্তি নষ্ট করে দিয়েছে!
বাংলাদেশে ভুমিকম্প নতুন নয়, বিভিন্ন সময় এমন ভুমিকম্প হয়েছে বৈকি! তা হলে এবার কেন সমস্ত মানুষের চোখেমুখে ভীতির চিহ্ন? সচেতন মানুষ গুলো দারুন দুশ্চিন্তায় ভুগছেন! কি এর রহস্য?
প্রিয় পাঠক, ১৭৬২ সালে বাংলাদেশে ৮.৫ রিএক্টরের ভুমিকম্প হয়েছিল, যে কম্পন কর্ণফুলী ব্রম্মপুত্রের গতিপথ পাল্টে দিয়েছিলো! কর্ণফুলী পাশ্ববর্তী "আনোয়ারা" উপজেলা তখন সৃষ্টি!
প্রায় ৫ কোটি বছর আগে ইন্ডিয়ান ও ইউরোশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে সৃষ্টি হয় আকাশের ছাদ "হিমালয় পর্বত শ্রেনী", চিরতরে মুছে যায় " তেতিস সাগর", আজও হিমালয় গায়ে জীবাশ্মের অস্তিত্ব পাওয়া যায়!
এই মুহূর্তে ইন্ডিয়ান প্লেটটি দুই ভাগ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের ভুমিকম্পের সম্ভাবনা বেড়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে! রিস্ক জোন হচ্ছে সিলেট ময়মনসিংহের ৯টা জেলা, ঢাকা, পুরা কিশোরগঞ্জ, কুমিল্লা, বান্দর বন! আসাম মেঘালয় সীমান্তে হওয়ায় সিলেট ময়মনসিংহ দারুন ঝুকিপূর্ণ। বলা হচ্ছে এ অঞ্চলে ৭/৮ মাত্রার ভুমিকম্প ঝুঁকিতে!
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেনিক ছড়ানো হচ্ছে "৬ ই ডিসেম্বর ডেডলাইন দিয়ে, সেদিন ৮/৯ রিএক্টর স্কেলে ভুমিকম্প হবে, এমন গুজবে মানুষ দারুন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত! আসলে এমন গুজবের সত্যতা কি?
আমি আমার সাহিত্য পরিষদে অনলাইন ভুমিকম্প আলোচনার দেখলাম অনেক উচ্চ শিক্ষিত লোক ও ভূতত্ত্ব জরিপ লেয়ার গুলো জানেন না, সেই আমাদের বসবাস স্তর Crust, Mantal, Core, Core এর দুই অবস্থা কেমন Inner Core & Outer Core কেমন অবস্থায় আছে তা তাদের জানা নাই, জানা থাকার ও কথা নয় কারন আমরা কেউ ভূতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করি নাই, অতিউৎসাহী হয়ে যারা পড়েছেন তারা শুধু জানেন এবং outer core যে solid & reaming with 6000°C তাপ, রাশিয়া চীন প্রায় ১২ কিলোমিটার ড্রিল করে দেখতে চেয়েছিল নিচে কোন স্তরে কি আছে? একসময় ব্যর্থ হয় ড্রিল মেটাল ১৪০০ ডিগ্রি তাপে পুড়ে গেলে!
এসব না জেনে আলোচনা করা কঠিন এবং দারুন ভুল ভাল অবৈজ্ঞানিক তথ্য প্রদান হবেই। দেখা গেছে কেউ জল তোলা, কেউ খনিজ তোলা, কেউ আবার ঈশ্বর অবমাননা টেনে এনেছেন! সে যাক --
বাংলাদেশ নরম পলি দিয়ে গঠিত একথা সঠিক, তেমনি মাত্র ২৫ লক্ষ বছর আগে এই ভূখন্ড তৈরি! ৮/৯ রিএক্টর স্কেলে ভুমিকম্প হলে তলিয়ে যেতে পারে, প্রায় হাজার বছরের চার্জ জমা টেকটোনিক প্লেট দুটোতেই। কেবল রিলিজ হলো আটকে থাকা প্লেট দু'টো যার ভারতীয় প্লেট টা দ্বিখণ্ড হয়ে গেছে!
প্রতি দেড়শো বছর পর ভুমিকম্প প্রবনতা বাড়ে। সারা বিশে যে সহস্র Volcano আছে জীবিত বা মৃত্যু তার অর্ধেকের বেশী প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। বিশ্বের "Ring of Fire" পরিচিত জোনটা ই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। যার জন্য চীন ইন্দোনেশিয়া ইরান জাপান আমেরিকা ভুমিকম্প হয় বেশি! আমরা নতুন ভাবে ইন্ডিয়ান প্লেটটি ভেঙে যাওয়ায় রিস্ক জোনে পড়েছি বলে ধারনা!
সুখবর হচ্ছে, কয়েক দেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর এমন ভাবতে শুরু করেছে যে বাংলাদেশের ৫.৭ স্কেলে যে ভুমিকম্প হয়ে গেলে এই কম্পন জমে থাকা চার্জ কে ডিসচার্জ করে দেওয়ায় পরবর্তী ছোট ছোট ভুমিকম্প গুলো আরো ডিসচার্জ এ্যাকশনে নতুন কোন ৮/৯ স্কেলের ভুমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা নাই!
লেখক মনে করে ৬ ই ডিসেম্বর ডেডলাইন যারা ভীতসন্ত্রস্ত করতে ছড়াচ্ছে তারা একদম ভূতত্ত্ব অনভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ, তাদের হাতে তেমন কোন পূর্বাভাস নাই! তবে Indian টেকটোনিক প্লেট টা দ্বিখণ্ডিত হওয়ায় এবং হিমালয় থেকে রিলিজ হয়েছে বিধায় ঘনঘন ৩/৪ মাত্রার ভুমিকম্প পরিলক্ষিত হতে পারে সেজন্য ভীত না হয়ে একটু মানসিক ও চলাফেরা সতর্কতা অবলম্বন করা যেতে পারে!
স্মর্তব্য, ঢাকায় প্রায় ২১ লক্ষ ভবন আছে, তার ১৫ লক্ষ দোতালার উপরে নয়, রাজউক হিসাব এমন-ই কয়! উচ্চ ভবন গুলো সব সময় একটু রিস্ক ফেক্টর বহন করে। বাকী জাপানের মত শিশুদের ও স্কুল কলেজে যাওয়ার পথে ভুমিকম্প হলে কি করতে হবে শিক্ষা দেওয়া হয়, তেমন এদেশে ও করা যেতে পারে!
সুখবর, চীন আগাম বার্তা মিটার আবিষ্কার করেছে। বাজারজাত করা যায় ভুঅভ্যান্তরের অবস্থা জানতে
U S G S চেষ্টা করছে কয়েক সেকেন্ড আগে ভুমিকম্প বার্তা পাওয়ার মিটার দ্রুত আবিষ্কার হবে!
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালোবাসেন, গুজবে কান দিবেন না, সব জায়গায় ধর্ম টানবেন না, নির্বাচন বা ভুমিকম্প ইত্যাদি কে ধর্মীয় মোড়কে না বাঁধা উত্তম!