এস এম রকিবুল হাসান
নিয়ামতপুর নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর নিয়ামতপুরে পরকিয়া ও যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতন ও মুখে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বাবা মোঃ নূর হোসেন (৫২)।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায় , মোসাঃ আমিনার সঙ্গে ২০২০ সালে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় মোঃ মাহাবুর হাসান (মহব্বত)-এর। বিয়ের সময় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ও ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
আরও বলা হয়, প্রায় তিন বছর ভালোভাবে সংসার করার পর স্বামী মাহাবুর হাসান মহব্বত পরকিয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুক না পেয়ে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় আমিনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলে দাবি করেন নূর হোসেন।
২১ অক্টোবর ২০২৫ সকাল ৮টার দিকে নির্যাতনের এক পর্যায়ে শ্বাসরোধ ও পরে মুখে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় গৃহবধূ আমিনাকে প্রথমে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে স্বামীর বাড়িতে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও স্বামীর পরিবার নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এদিকে, ভুক্তভোগীর তিন বছর বয়সী সন্তান মোঃ আব্দুর রহমানকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাদের কাছে নিয়ে গেছে এবং ফেরত দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন গৃহবধূর বাবা।
ভুক্তভোগী আমিনা প্রতিবেদককে বলেন, আমার স্বামীর পরকিয়ার নগ্ন ছবি মোবাইল ফোনে দেখতে পাওয়ার পর থেকে আমার সাথে অশান্তি এবং নির্জাতন শুরু হয়। এরপর বিষয়টি আমার ননদের স্বামী শাহিনুরকে জানালে সে বলে সবকিছু ঠিক করে দিবে। কিন্তু তা না করে আজ আমাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং একপর্যায়ে আমার শশুর-শাশুড়ির সহযোগিতায় আমার স্বামী মহব্বত জোর পূর্বক মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে তাদের অপকর্মের প্রমান নষ্ট করার লক্ষ্যে হত্যার চেষ্টা করে। এতে ক্ষান্ত না হয়ে আমি যখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছি তখন আমাকে কোটের মাধ্যমে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দেয়।
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, গত ২৫ নভেম্বর আমিনার বাবা নুর হোসেন বাদী হয়ে মাহাবুর হাসান মহব্বত, জালাল উদ্দীন সেন্টু ও মরিয়মকে আসামী করে নিয়ামতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামী ধরার জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে।