ভারত সংবাদদাতা:-
পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর ২৪ পরগনা,স্বরূপনগর: প্রতিবেশীর সন্তানের শিক্ষার দায়িত্ব পালনেও এগিয়ে আসতে হবে প্রত্যেক মুসলিমকে। আমাদের সন্তানদের মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে প্রতিবেশীর সন্তান যেন মূর্খ, অশিক্ষিত না থাকে। কোন সন্তান যেন স্কুল মাদ্রাসার বাইরে না থাকে। রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর ইসলামিয়া পাঠাগারের ৪৪ তম বার্ষিক সাধারণ সভার বক্তব্যে এমনই আবেদন জানালেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্য ও ফ্রন্টপেজ একাডেমির চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাওলানা মুহাম্মদ কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, সমাজের সচেতন মানুষকে যেমন ইসলামী কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে পালন করতে হবে তেমনি প্রতিবেশীর শিক্ষার প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আল্লাহর রসূল সাঃ প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব পালনে যেমন নিজের ঘরে খাদ্য থাকলে ক্ষুধার্ত প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়ার কথা বলেছেন। তেমনি এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমাদের খোঁজ নিতে হবে প্রতিবেশীর কোন সন্তান যেন মূর্খ না থাকে। সেজন্য সচেতন প্রতিবেশী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলে আমাদের যারা পিছিয়ে রাখতে চাইছে, যারা সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে, যারা শিক্ষার স্বাস্থ্যের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে, নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে চাইছে, বা আমাদের দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক করে রাখতে, চাইছে, ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে তাদের উপযুক্ত শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করতে পারবো। আমাদের প্রতিটি সন্তানকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। আজ আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই চলতে থাকলে প্রতিবেশী হিসেবে দায়িত্ব পালনে সমাজে একটা পরিবর্তন আসতে বাধ্য। আমরা আগামী ১৫ বছর ধরে এই সংগ্রাম চালাতে পারলে নতুন প্রজন্ম একটি সুন্দর সময় দেখতে পাবে। আপনারা এই সমাজের পরিবর্তন দেখতে পাবেন। ছাত্র ও যুব সমাজকে তিনি বলেন, ইসলামে আবেগ তাড়িত হওয়ার কোন জায়গা নেই। ইসলামের দায়িত্ব পালনের ভূমিকার জায়গা আছে। সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোন ফাঁদে পা না দিয়ে, আইন হাতে তুলে না নিয়ে বড়দের পরামর্শ মতামত আপনারা এগিয়ে চলুন। উত্তম পথেই পরিবর্তন আসবে। এদিন বক্তব্য রাখেন জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সম্পাদক মাওলানা কাজী আরিফ রেজা। তিনি নেতাজী সুভাষ চন্দ্রের ইংরেজি বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ভারতের মুসলমানদের ত্যাগ, তিতীক্ষা কোরবানি দিয়ে লড়াই করেছিল তা তুলে ধরা হয়নি। ব্রিটিশ প্রোপাগান্ডা ছিল হিন্দু মুসলমান বিভেদ তৈরি করে দুটি জাতিকে বিচ্ছিন্ন করতে। পাশাপাশি বিশিষ্ট দার্শনিক সেলডম এর কথা অনুযায়ী তিনি বলেন, ভারতবর্ষের ভিন্ন জাতি, ভিন্ন ধর্মের মানুষের কৃষ্টি সংস্কৃতি আলাদা সত্ত্বেও উভয়ই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইংরেজদের বিরূদ্ধে লড়াই করে বিশ্বের একটি দৃষ্টান্তমূলক গণতন্ত্র স্থাপন করেছিল। সেই দুটি জাতি- একটি সংখ্যাগুরু একটি সংখ্যালঘু। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক ড.নিরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সারা পৃথিবী ব্যাপী যারা পাঠাগার নিয়ে চর্চা করেন তারাই হচ্ছে প্রকৃত কল্যাণকামী মানুষ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশ বিরোধিতা সত্ত্বেও ভ্রাম্যমান পাঠাগার তৈরি করেছিলেন নাম দিয়েছিলেন 'চলন্তিকা'। তিনি আরো বলেন, কালের নিয়মে আমরা সবাই একদিন চলে যাব। কিন্তু গ্রন্থ থেকে যাবে। যদি তা যথার্থভাবে সংরক্ষিত হয়। কারণ গ্রন্থই মানুষকে পথ দেখাতে পারে। এদিন পাঠাগারের বার্ষিক মুখপত্র আল-হামরা'র ১৭তম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শহীদ তিতুমীর মিশনের সম্পাদক রবিউল হক, ড. শক্তিনাথ সাহা, মাওলানা আব্দুল মুহিত, ড. মোস্তাফা আব্দুল কাইয়ুম, আলহাজ্ব কাসেম আলী , মাওলানা শামসুল হুদা, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সহ-সম্পাদক ইছাহাক মন্ডল, এসএম কাউসার আলী ও পত্রিকা সম্পাদক এনামুল হক। কবি সরবত আলি মণ্ডল নিজের জীবন গ্রন্থ "অপরাজেয় সরবত আলি মণ্ডল," মদীনার জ্যোতি ইসলামী পত্রিকা সহ একগুচ্ছ গ্রন্থ পাঠাগার সম্পাদক রওশন আলি সাহেবের হাতে। উপস্থিত ছিলেন শহীদ নুরুল ইসলাম মহাবিদ্যালয়ের আরবি বিভাগীয় প্রধান ড. আবুল কালাম, অধ্যাপক ওয়াসিফ আলী ও আমানুর জামান। সম্পাদকীয় প্রতিবেদন পাঠ করেন মাওলানা রওশন আলী। সভাপতিত্ব করেন নুরুল ইসলাম। কেরাত পাঠ করেন মাওলানা আব্দুর রহমান, মাসুদ হোসেন, এস এম আল আমিন ও হাফেজ মাওলানা হাবিবুল ইসলাম । কবিতা পাঠ করেন রমজান আলী। আখেরি মোনাজাত করেন আবু জাফর খান। সঞ্চালনায় ছিলেন ইমরান হোসেন মণ্ডল।