
এম এম ইসলাম, দেগঙ্গা-হাড়োয়া থেকে:
মানবসেবার এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দেগঙ্গা থানার সেকেন্দার নগরের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আলোর পথ অর্গানাইজেশন। গত ২১ ডিসেম্বর, রবিবার সংস্থার উদ্যোগে সেখানে একযোগে রক্তদান শিবির ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
রক্তদান শিবিরে মোট ১২০ জন মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। এই কর্মসূচিতে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল, যা সমাজে মানবিক দায়বদ্ধতা ও সচেতনতার ইতিবাচক বার্তা বহন করে। একই সঙ্গে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ৩০০ জন মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়, রক্তে সুগার ও রক্তচাপ পরীক্ষা, ইসিজি, চক্ষু পরীক্ষা, চশমা বিতরণ, ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ—সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত ও পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার চিত্র উঠে আসে।
এই মানবসেবামূলক আয়োজনের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও গুরুত্ব আরোপ করা হয়। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, আলিম, ফাজিল ও নেট পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানানো হয়। একই সঙ্গে এলাকার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও কবর খননকারীদের তাঁদের সমাজসেবামূলক ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সমাজের বিভিন্ন স্তরের এমন ব্যক্তিদেরও সম্মানিত করা হয়, যাঁরা নীরবে ও নিরলসভাবে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে, পুষ্পস্তবক ও স্মারক তুলে দেন আলোর পথ অর্গানাইজেশনের সদস্যরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ডেবরার বিধায়ক ড. হুমায়ুন কবির বলেন,
“জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে মানবসেবাই একটি সমাজকে প্রকৃত অর্থে শক্ত ও মানবিক ভিতের উপর দাঁড় করায়।”
শিক্ষক ও সাহিত্যিক মহম্মদ মফিজুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,
“এক বোতল রক্তের দানে একজন মুমূর্ষ মানুষ নতুন জীবন ফিরে পায়। এই জীবনরক্ষার অনুভূতির চেয়ে বড় মানসিক তৃপ্তি আর কিছু হতে পারে না।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আবেদিন হক আদি, চিকিৎসক ফারুক হোসেন গাজী, শিক্ষক আবু সিদ্দিক খান, শিক্ষক শাহনওয়াজ আলম, সাবানা পারভীন, মুফাসসির হোসেন, আব্দুল খালেক মোল্লা, ফারুক আহমেদ বিশ্বাস, সাবির আলি প্রমুখ।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন হাসিমিয়া ইন্টারন্যাশনাল একাডেমির সুপারেনটেনডেন্ট মুফাসসির হোসেন ও আবদুল হালিম।