লেখকঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
বিশ্বের সব পেশার ভিতর ডাক্তারি পেশা ছিলো
জনসেবা পেশা! সারা বিশ্বে তার তেমন পরিবর্তন হয় নাই। সব দেশের ডাক্তারদের মানব সেবায় এখন ব্রতী আছে! থাইল্যান্ড ভারত সিঙ্গাপুর এসব দেশে যারা ডাক্তারের কাছে গেছেন তারা দেখেছেন ঐসব দেশের ডাক্তাররা কত আন্তরিক! যে ঘাড়ের ব্যথায় বাংলাদেশে হাজার তিরিশ খরচ করেও কোন উপশম নাই সেই একই রোগ মাত্র তিনশো টাকা ভিজিটে বিনা ঔষধে একটা এক্সারসাইজ সুস্থ করে দেয়ার উদাহরণ আমার জীবনে ঘটেছে! ডাক্তার ধরে ফেলেছিলেন কম্পিউটার চালানো ও একদিকে এসির বাতাস সরাসরি লাগায় এমন হয়েছে! ভারতীয় সে ডাক্তার কে আমার সহধর্মিণী বলেছিলেন, next visit কয় মাস পরে স্যার। ডাক্তার উত্তরে বলেছিলেন, no next visit, ইচ্ছে হলে বেড়াতে আসবেন। কোন মেডিসিন লেখেন নাই, শুধু একটা এক্সারসাইজ!
গতকাল মরতে মরতে বেঁচে গেলাম, আবিষ্কার হলাম রাজধানীর একটা বিশাল হাসপাতালের ১৩ তলায়। রোগ ছিলো "ডায়বেটিস জনিত হাইফো', মরার সম্ভাবনা ছিলো নিরানব্বই ভাগ, আবার চিনি শরবত খেয়ে বেঁচে যায় শতজন, চিনি শরবত খালি পেটে খেলে "বমি" হওয়ার সম্ভাবনা ও থাকে বিরানব্বুই ভাগ! হাসপাতালে ইমার্জেন্সি ডাক্তার দেখে বলেছেন, ভর্তি হতে হবে। মূল্যবান সেলাইন লাগায় ভর্তি করে নিলেন! বেঁচে গেলাম আল্লাহর মর্জি। কিন্তু মজাটা হলো "সিন্ডিকেট আর মব" চরিত্রে!
ভর্তি হওয়ার সাথে সাথে দুই-চার জন সহকারী নিয়ে একজন ডাক্তার এলেন আমার নাম ধরে ডাকতে ডাকতে! তিনি আমার নিজ মুখে কয়েক সেকেন্ডে কষ্ট টা শুনলেন! আসলে তখন আমার কোন কষ্ট নাই। আমি সম্পূর্ণ সুস্থ। কষ্ট হলো সুগার ফল করে পড়েছি ওয়াশরুমে বাথটব বেসিন কমোডের চিপা চাপায়, অনিয়ন্ত্রিত অবস্হায়, আঘাত খেয়েছি বিশ্র ভাবে প্রকৃতির নিষ্ঠুর নিয়মে, অতএব ব্যথা পাইনি এমন কোন জায়গা নাই। ঈশ্বর মহান, মাথাটা সেভ করে বাঁচিয়ে দিয়েছেন! আবার কয়েক মিনিট বা আধা ঘন্টা পর জ্ঞান ফিরিয়েছেন! অন্যথায় এই জ্ঞান লোপ শেষ নিঃশ্বাস হতে পারতো। জেগে আর উঠতে পারি না, অনেক কষ্টে উঠলাম। কিন্তু পা ফেলি পশ্চিমে চলে যাই পুবে! একাকিত্ব বসবাস! আবার বেঁচে থাকতে চোর-ডাকাত শত্রুর জন্য কয়েক পাল্লা গেট লক জীবন! কোনমতে বিছানায় পড়ে কয়েক জায়গায় ফোন করলাম, তার আগে হামাগুড়ি দিয়ে Fox chocolate খেলাম, খুলতে না পেরে কাগজ সহ চিবালাম, চিনির ভান্ড থেকে গ্লাসে চিনি শরবত করতে হাত কেপে দু'বার আছাড় খেলাম। বুঝলাম এই বোধহয় শেষ পৃথিবীর চেহারা দেখা।
একজন সাড়া দিয়ে উঠে এলো, কষ্টে Entry দিলাম, বললাম আমাকে বাঁচা তে পারো কিনা একটু চেষ্টা করো। সে দ্রুত রুম থেকে আর একজন ডেকে এনে আমাকে তুলে নিচে নিয়ে গাড়ীতে তুললো! ততক্ষণে আমি শরীর ছেড়ে দিয়েছি! রাত তখন শেষের পথে।
প্রিয় পাঠক, আমি আসলে আমার হাসপাতাল ও ডাক্তার অভিজ্ঞতা বুঝাতে চাচ্ছিলাম সে রাতের। যে ডাক্তার সহকারী কয়েকজন নিয়ে এলেন তাকে "হাইফো" বললে তার সব পরিস্কার জলবততরলং হয়ে যাওয়ার কথা। তিনি সহকারীদের , ইসিজি সহ কয়েকটা টেস্ট লিখতে বললেন, আমি আপত্তি করলে তিনি একটু অখুশি হলেন, মনে করলেন, আদার ব্যপারির জাহাজের খবর কি দরকার ? আমি শুধু বললাম Symptoms does not requires these tests. আমার সুগার ফল করেছিলো! তিনি বললেন, বমি হয়েছিল, উত্তর দিলাম, জিস্যার, তিনি Gastrology specialist না ডাকেন (দশ বছর আগে খোদ বারডেমে আমাকে গ্যাস্ট্রোলজি ডাক্তার কে হ্যান্ড ওভার করেছিলো)!
আমি তাড়াতাড়ি বললাম, স্যার Body suger develop করতে চিনি শরবত এক গ্লাস খেতেই হয় আপাতত বাচতে। খালিপেটে চিনি শরবতের রিএ্যাকশন Acidity এবং বমি হবেই। তাতে তো রোগীর Gastrology সমস্যা মনে করার কোন কারন আছে কি? তিনি রোগীকে ডাক্তারি বিদ্যায় এত পন্ডিতি পছন্দ না করে টীম নিয়ে চলে গেলেন! আরো কিছুক্ষণ থাকলে CT SCAN বা শরীর ব্যথার জন্য X-RAY, MRI. দিতেন কিনা আল্লাহ জানেন!
খোঁজ নিলো আমার সাথের সহ কর্মী গন, একদিনে কেমন, কোন কোন খাতে বিল হবে?
Emergency doctor visit হাজার টাকা, ভিজিট ডক্টর পনেরো শো টাকা যিনি কিছু শুনলেন না কিছু বললেন না, সেলাইন নয়শো টাকা, অন্যান্য মিলে হাজার ছয় ততক্ষণে হয়ে গেছে! আমার তো বহন করার সামর্থ্য ছিলো কিন্তু এদেশের গরীব জনসাধারণ কোন যাতা কলে নিষ্পেষিত হচ্ছে। তারা তো এসব টেস্ট খরচ এড়াতে পারতেন না! কত গরীব লোক দেখে এলাম WARD গুলো ভর্তি! হেটে হেঁটে একজন ডাক্তার ১৫০০ টাকা প্রতি রোগী প্রতি ভিজিট নিলে এক ward এর কম পক্ষে ২০ জন রোগী থাকে, একদিনে কত আয় হাসপাতালের। কেবিন থেকে wardএর গরীব রোগীর কোন ছাড় আছে বলে আমার অনুসন্ধানী চোখ পার্থক্য পেলো না!
প্রিয় পাঠক, রাজধানীর অনেক মব বা সিন্ডিকেট নিয়ে আপনারা কথা বলেন, পর্দার আড়ালে কৌশলে ফেলে অসহায়দের গলাকাটা চক্ষু মেলিয়া আমরা দেখি কি?