
মাসুম ভুইয়া, নরসিংদী প্রতিনিধি:
অবশেষে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ঘোষণা করেছেন নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদের টানা ২ বারের সাবেক চেয়ারম্যান জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক বার বার কারা নির্যাযিত নেতা আলহাজ্ব মনজুর এলাহিকে। মহাসচিবের স্বাক্ষরিত পত্রটি পাওয়ার সাথে সাথে দানবীর শিল্পতি আলহাজ্ব মনজুর এলাহির হাজার হাজার নেতাকর্মী সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহ হাইকমান্ডের নেতৃবৃন্দদেরকে শুভেচ্ছা ও অভিন্দন জানান এবং আলহাজ্ব মনজুর এলাহীর বিএনপি নেতা কর্মীসহ সমর্থকরা বাঁধ ভাঙ্গা উল্লাসে ফেটে পড়েন।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দলীয় প্যাডে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একপত্রে এতথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শরিকদলের প্রার্থীদেরকে আরো ৮টি আসন ছেড়ে দিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নরসিংদীর ৫ টি সংসদীয় আসনের জাতীয় সংসদীয় আসন ২০১ নরসিংদী-৩ শিবপুর আসন থেকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান,জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক বার বার কারা নির্যাযিত নেতা আলহাজ্ব মন্জুর এলাহীকে। দানবীর শিল্পতি আলহাজ্ব মনজুর এলাহির হাজার হাজার নেতাকর্মী সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহ হাইকমান্ডের নেতৃবৃন্দদেরকে শুভেচ্ছা ও অভিন্দন জানান এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী সহ সমর্থকরা বাঁধ ভাঙ্গা উল্লাসে ফেটে পড়ে। “মন্জু এলাহীর ধানের শীষ, খালেদা জিয়ার ধানের শীষ, তারেক জিয়ার ধানের শীষ, শিবপুরেতে ধানের শীষ, মনজু ভাইয়ের ধানের শীষ, ধান লাগা, লাগারে লাগা, ধান লাগা, ‘যোগ্য ব্যক্তি মঞ্জু ভাই ধানের শীষে ভোট চাই’ এমন স্লোগানে মুখর হয়ে উঠে শিবপুরের বিভিন্ন সড়ক।
উল্লেখ্য ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী তিন শিবপুর আসনে মনজুর এলাহীকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়া হয়। ওই সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে ছিল আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে জহিরুল হক ভুইয়া মোহন ও আওয়ামী বিদ্রোহী সিরাজুল ইসলাম মোল্লা। সে সময় আওয়ামী লীগ দলীয় ওই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মূল টার্গেট ছিল আলহাজ্ব মনজুর এলাহীর উপর। কেননা নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে পারলেই নৌকা কিংবা নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থীর জয় আর কোন বাধা ছিল না। তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের কুটকৌশলের কাছে সে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয় মঞ্জুর এলাহী। বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে আদালত কর্তৃক মনজুর এলাহি নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। ফলে নির্বাচনী মাঠ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল আলহাজ্ব মঞ্জুর এলাহিকে। ধানের শীষের দ্বিতীয় দফায় মনোনয়ন পেলেন মঞ্জুর এলাহী।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শিবপুরবাসীর রায়ে প্রমান করবে আলহাজ্ব মনজুর এলাহীকে কতটুকু ভালবাসেন। জানা গেছে, নরসিংদী-৩ আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থীর মধ্যে আলহাজ্ব মনজুর এলাহী অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী। যিনি তার সাংগঠনিক দক্ষতায় ইতিমধ্যে নিজের অবস্থানকে মজবুত করে নিয়েছেন। বিগত কয়েক বছরে নরসিংদীর শিবপুর থানার তৃণমূলে নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানে সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তরুণদের মধ্যে দলীয় আদর্শ প্রচারে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কর্মশালা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন ছাড়াও কেন্দ্র ঘোষিত মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ, পদযাত্রা ও গণঅবস্থান কর্মসূচি তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবায়ন করেছেন। রাজনৈতিক দমন-পীড়নের সময়ও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে মাঠে ভূমিকা রেখেছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে বার বার গ্রেফতার হয়েছেন আলহাজ্ব মনজুর এলাহী। তিনি চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও শিবপুরবাসীকে সাথে নিয়ে অগ্রণী ভুমিকা রাখেন।