লেখক: ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
হতাশা নিরাশা আর "মব" রাজ্যত্বের নিমজ্জিত প্রায় বাংলাদেশ কে, কিছু গনতান্ত্রিক আশা জাগাতে, নিরুপায় মানুষ তাকিয়ে ছিলো কোন কারো দিকে যে এসে জনগণকে কোন আশার বানী শোনাবে! ১৩ ই জুন ২০২৫ শে প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাজ্যে "তারেক জিয়ার" সাথে একান্ত বৈঠক করলে জনগন বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো, ভেবেছিল গনতন্ত্র ফিরাতে বিএনপি সহায়ক হবে না! নতুন বোতলে পুরাতন মদ ঢালা হবে এমন ধারনা জনগণের ভিতর দানা বাঁধতে শুরু করে, দলের চাঁদাবাজি ও বেড়ে গিয়েছিলো দ্বিগুণ হারে! বিএনপি গ্রাম পর্যায়ে ও তাদের ক্ষমতায় ভাবা শুরু করে ছিলো! হয়তো শেষ পর্যন্ত তারেক রহমান বর্তমান সরকারের উপর আস্হা রাখতে পারেন নাই তাই দেশে ফিরা বিলম্বিত!
প্রিয় পাঠক, ২০০৮ সালে রাজনীতি না করার শর্তে "অন ইলেভেন সরকারের" হাত থেকে জীবন বাঁচিয়ে প্রবাস জীবনে চলে যান "তারেক রহমান!" ফিরে এলেন ২৫শে ডিসেম্বর ২০২৫ একজন ম্যাচিউরড "তারেক জিয়া!" তার ভাষনে নাই "গতানুগতিক আওয়ামী বিরোধী বক্তব্য, নাই ভারতের সেভেন সিস্টার আলাদা করার জন্য অনুপচেটিয়াকে মদদের উস্কানি!" তিনি গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন, বলেছেন সবাইকে একসাথে দেশের কথা ভাবতে! এটা একজন ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রনায়কের কথা! নির্বাচনে প্রার্থী বিহীন আওয়ামী ভোট টানতে পারবেন বলে তার এ ভাষনে মনে হয়েছে !
পাঠক, বাংলাদেশ ততদিন ভালোমন্দ মিলে জনগণ ভালো ছিলো, একবার খালেদা একবার হাসিনা, তা ছিলো মোটামুটি গনতান্ত্রিক রদবদল! এবারের মত শতবছর দেশটা পিছুটানে পড়ে নাই! যদিও তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের বড় অবদান কোন দলের তার বিন্দু বিশ্লেষণ করতে পারি! সেনা ব্যাকড তত্ববধায়ক সরকারের সেই অত্যাচার বৃহৎ রাজনৈতিক দুই দলের ভোলার কথা নয়!
তারেক রহমান বাংলাদেশে বিমান বন্দরে পা রেখে দেখেছেন, " সিঙ্গাপুর চাঙ্খি আদলের বিমানবন্দর! দেখেছেন পদ্মাসেতু, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেল, যমুনা সেতু,তিস্তা সেতু, পায়রা সেতু, দ্বিতীয় মেঘনা সেতু, ২য় কাচপুর সেতু, ২য় গোমতী সেতু, মোট একশত ছোট-বড় সেতু, সড়ক মহাসড়কে ভরপুর, তিনশ ফিট রোড যেখানে তিনি ভাষন দিলেন! শত শিল্প নগরী রূপায়ণ মুখ থুবড়ে পড়েছে! ৯৪ তম আয়তনের ৮ তম ঘনবসতি দেশ টা আজ ৩৫ তম অর্থনীতির দেশ যার প্রশংসা মালয়েশিয়ার লৌহ মানব মাহাথির মোহাম্মদ ও পঞ্চমুখ!
পাবনা ঈশ্বরদী রূপ পুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প, তিনি দেখে গেছেন ৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, লোডশেডিং ভরপুর বাংলাদেশ, আজ ২৫ হাজার ৮২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ! এত ব্রিজ কালভার্ট কি দেখে গেছেন? তিনি তার মায়ের শাসন আমলে নজর দিলে, দেশপ্রেমিক পদক্ষেপ নিলে এমন উন্নয়ন করতে পারতেন। তিনদিকে পরিবেষ্টিত ভারতের ৩৮ টা রাজ্যের "রাজস্থান" রাজ্য বাংলাদেশের ৫ টার সমান বড়, এত ক্ষুদ্র হয়ে ও বিশ্বের ৪ র্থ শক্তি ভারত কে ভাগ করার মত "মুজাহিদ নিজামি" বুদ্ধি মত চলা ছিলো মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার জিয়ার স্ত্রী পুত্রের জন্য দারুন বুদ্ধি হীন কাজ। ভারত কে কোন ছাড় নয়, ভারতের না খোশ উপেক্ষা করে কিনুন না হাসিনার মত "চীন থেকে সাবমেরিন আরো দু'টো!" ইলিশ মাছ দেয়ার কি দরকার, আকাশ সীমা বর্তমানের মত ছাড়ার দরকার নাই, কিন্তু লোক দেখানো ভারত বিরোধিতা নয়! ব্যবসা বানিজ্য করুন ভারত পাকিস্তান চীনের সাথে। এমন করতে যেয়ে "পাক গনতান্ত্রিক সরকার ইমরান খান ক্ষমতা হারিয়েছেন মার্কিন রোষানলে !"
আজ হয়তোবা তারেক জিয়া বুঝতে পারছেন "বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আর বিএনপি এক গোত্রের লোক না, কারন তার বাবার হাতে জামাত রাজনৈক লাইসেন্স পেলে ও ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনের অবস্থান ছিলো মেজর জিয়া আর জামাতের ফিল্ড ভিন্ন! ভুলে ভরা বিগত দিন না হলে আজকের স্মার্ট বাংলাদেশের রূপকার শেখ হাসিনার আগে হয়তো বেগম খালেদা জিয়া হতে পারতেন!
Destructive Politics is not Democratic Politics at all, কোন দেশ কে ভেঙে টুকরো করার নেশা, কোন দলের নেত্রী কে হত্যা করতে গ্রেনেড হামলা করা রাজনৈতিক নৈতিকতা বিরোধী। কেন একজন মুক্তি যোদ্ধা রাষ্ট পতির ছেলের বিদেশে অর্থ পাচারের সাক্ষী দিতে এফবিআই কর্মকর্তা ডোবরা আসবেন আদালতে, কেন গোপন ষড়যন্ত্রের তথ্য ফাস করবে (২০০৮ সালে) শক্তি শালী গণমাধ্যম উইকিলিংক? আমরা এসব ভুলে যেতে চাই কিন্তু তিনি যেন এসব না ভোলেন! তিনি এবার সেরাটা দেখাবেন জনগণের নেতা হয়ে, বিদেশি পলিসি হবে সবাই বন্ধু, কেউ নয় শত্রু! সংখ্যা লঘুর বুক যেন না কাপে ২০০১ সালে বিএনপি জয় লাভের পর যেমন ঘটেছিল। বুকে টেনে নিন সব ধর্মের লোক কে, সবার নেতা সেজে যান যা বিশ্ব লিডারশীপের নিয়মনীতি!
জয় হোক ২০২৬ সালে ১২ ই ফেব্রুয়ারী জাতীয় নির্বাচনে গনতন্ত্রের। মুক্তি পাক এদেশের জনগণ কারো না কারো হাত ধরে!