
স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য ভাগ দাবি করায় আপন বড় ভাইদের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক ছোট ভাই ও তার স্ত্রী। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলমান এই পারিবারিক বিরোধে চরম বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছে একটি পরিবার।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রয়াত পিতার রেখে যাওয়া প্রায় ২০ বিঘা জমি চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে আইনানুগভাবে বণ্টন হওয়ার কথা থাকলেও তিন ভাই—ডা. গোলাম মোস্তফা, প্রভাষক গোলাম রব্বানী ও গোলাম আযম—দীর্ঘদিন ধরে পুরো জমি দখলে রেখে ভোগ করে আসছেন। বারবার অনুরোধ ও পারিবারিক সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও তারা জমির ভাগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, জমির ভাগ চাওয়াকে কেন্দ্র করে ছোট ভাই গোলাম ওয়াজেদ ও তার স্ত্রীকে একাধিকবার লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে প্রাণের ভয়ে তারা নিজ গ্রাম ছেড়ে জলঢাকা শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতে বাধ্য হন।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, গোলাম ওয়াজেদ শান্ত স্বভাবের মানুষ। পৈতৃক সম্পত্তিতে তার ন্যায্য অধিকার থাকলেও বারবার তিনি অবহেলার শিকার হচ্ছেন। বড় ভাইরা নিজেরা জমি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও ছোট ভাইকে সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে গোলাম ওয়াজেদের বোনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাবার মৃত্যুর পর থেকে তারা সবাই সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত। ছোট ভাই ও তার স্ত্রীর ওপর যে নির্যাতন চালানো হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা প্রশ্ন তুলেছেন—এই দেশে কি আইন নেই, বিচার নেই সাত সন্তানের সম্পত্তি কীভাবে তিনজন জোরপূর্বক ভোগ দখল করে যেতে পারে
ভুক্তভোগী গোলাম ওয়াজেদ বলেন,
আমি এখন নিজের বাড়িতে যেতে ভয় পাই। আমাকে গুম বা হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়। নিজের মায়ের পেটের ভাইদের কাছ থেকেই এমন আচরণ পেতে হবে কখনো ভাবিনি। বাধ্য হয়েই আইনের আশ্রয় নিচ্ছি। আমি চাই আমার বোনদেরসহ আমরা সবাই যেন বাবার সম্পত্তির ন্যায্য হিসাব পাই।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।