লেখকঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
দেখতে দেখতে ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধের সোজা তিনটা বছর শেষ হলো! ফলাফলের কথা বলতে গেলে ইউরোপের রাশিয়ার পরে দ্বিতীয় বৃহত্তর এবং সমৃদ্ধ দেশ ইউক্রেন ধ্বংস স্তুপে পরিনত হয়েছে, বিশাল ইউক্রেন যার আয়তন ছয় লক্ষ কিলোমিটারের বেশী তার বিশ থেকে পচিশ শতাংশ জায়গা রাশিয়া দখল করে নিয়েছে! জনগণের ভোগান্তি, মৃত্যু, সম্পদ ক্ষয়, এসব হিসাবে আনলে সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ অসুস্থ হবে নির্দিধায়!
কেন এই যুদ্ধঃ
এ বিশ্বে আজ পর্যন্ত যত দেশের সর্বনাশ হয়েছে সে সর্বনাশের জন্য জনগন এক শতাংশ ও দায়ী নয়, ঐ দেশের "আহম্মক সরকার" তার ভুল সিদ্ধান্তে দেশটার সর্বনাশ করেছে! নিজ ঘরে যদি উদাহরণ দেই, আমরা দু'শ বছর বৃটিশ গোলামী করলাম সেনাপ্রধান "মীর জাফরের বিশ্বাস ঘাতক তায়!" আমরা পাকিস্তান থেকে কি আলাদা হতে চেয়েছিলাম? ১৯৭০ এর নির্বাচন, পর সংখ্যা গরিষ্ঠ ক্ষমতা পেলে তিন বছর পর বাঙালি তাকে ক্ষমতা থেকে হয়তো টেনে নামতো, কে বললো ২৫ মার্চের অপারেশন সার্চ লাইট করতে, কেন ৩০ লক্ষ লোকের জীবন গেলো, কেন ৪ লক্ষ মা-বোনেরা ইজ্জত হারালো, কেন আমরা আলাদা দেশ হলাম?
কে বুদ্ধি দিলো "কৌতুক অভিনেতা জেলেনস্কি" কে শক্তি বাড়াতে, NATOR সদস্য হতে জো বাইডেনের সাথে হাত মিলাতে, তড়িঘড়ি করে সদস্য হতে চেষ্টা চালাতে, ইউক্রেনের জনগণের
ম্যন্ডেড নিয়েছিল কি প্রেসিডেন্ট , এত সমৃদ্ধশীল ইউক্রেনের ২৫% জায়গা রাশিয়ার হাতে চলে গেলো, ইউক্রেনের মাটির নিচে যত খনিজ সম্পদ তা লিখে নিয়েছে "ট্রাম্প স্যার", অতএব যতটুকু ইউক্রেন বেঁচে থাকবে তার অধিকার আমেরিকার। আজ পর্যন্ত NATO ৩০০ বিলিয়ন ডলার সাহায্য দিয়েছে তা ফেরত চাইতে ও পারে!
প্রিয় পাঠক, জনগন দেশের ক্ষতি করে না, বরং সরকার ই যুগ থেকে শতাব্দী, তার খামখেয়ালি পনায় দেশের সর্বনাশ ডেকে এনেছে! এখন ইউক্রেন চলছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সেলাইনয়ের উপর!
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কি লাভ হলোঃ
মার্কিন রাশিয়ার পার্শ্ববর্তী ইউরোপিয়ান দেশ পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, সহ ১১ টা দেশের কাছে রাশিয়া পরবর্তী টার্গেটের ভীতি দেখায়ে অস্ত্র বাজার তৈরি করতে চেয়েছিলো, সে জন্য বাইডেন স্যার ৫/৬ টা দেশ সফর করেছিলেন, কিন্তু সে উদ্দেশ্য সফল হয় নাই। কেউ অস্ত্র কিনতে এগিয়ে যায় নাই বরং ইউক্রেন শেষ হলো। তার পুনর্গঠন করতে শত বছর সময় লাগবে!
দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিলো রাশিয়া কে আর্থিক ও সামরিক দুর্বল করা বরং বুমেরাং হয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো দুর্ভিক্ষ কবলিত হয়েছে, সাত গুন বেড়েছে তাদের বাজার দর। তেল-গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়েছে তাদের শিল্প কলকারখানা। রাশিয়া আর্থিক ভাবে আগের থেকে উন্নত হয়েছে এবং এশিয়াকে আগের থেকে সংঘবদ্ধ করেছে, "রাশিয়া চীন ভারত ইরান" কাছাকাছি এসেছে, N A T O তে ফাটল ধরেছে! এমন কি আফ্রিকার অধিকাংশ দেশ রাশিয়ার বন্ধু হয়েছে, ফ্রান্স তাড়া খেয়েছে অনেক দেশ থেকে। আফ্রিকায় ইউরোপীয় কলোনিজম ভেঙে গেছে!
ইউক্রেন কে দেখে বিশ্বের সব ছোট দেশগুলোর শেখা উচিত। বৃহৎ শক্তির দেশগুলো কারো বন্ধু না, স্বার্থ ছাড়া বৃহৎ শক্তি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র কখনও কারো বন্ধু না! বরং যুক্তরাষ্ট্র বন্ধু হলে তার আর কোন শত্রুর দরকার হয় না!
পশ্চিমা দেশগুলো ৩০০ বিলিয়ন আর্থিক সাহায্য ছাড়া ট্যাঙ্ক ড্রোন গোলাবারুদ আধুনিক অস্ত্র সৈন্য চিকিৎসা সরঞ্জাম ইত্যাদি আলাদা ভাবে দিয়ে সাহায্য করেছে ইউক্রেন কে।
২০২২ সালের ২৪ শে ফেব্রুয়ারী রাশিয়া ঘোষণা করে ইউক্রেন আক্রমণ করেছিলো। তখন আমেরিকা ও তার মিত্ররা লোভ দিয়েছিলো রাশিয়া কে পরাজিত করে ২য় বিশ্বযুদ্ধের মত জাপান জার্মানির শাস্তির মত টোকিও ট্রাইবুনালের মত ট্রাইবুনাল করে সব ক্ষতিপূরণ আদায় করে দিবে!
বাংলাদেশ পাকিস্তান কে ভাবা উচিত, এমন ৩ বছর আমাদের যুদ্ধ চালাবার শক্তি কারো সাথেই নাই ! অতএব যখন যে শাসক আসুন তাকে এই বিষয়টা মাথায় রাখার অনুরোধ রইলো।
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালোবাসেন।