
কলমে: নুপুর রায়
সূচনা
ইতিহাসের পাতায় সমাজ বদলের হাতিয়ার হিসেবে সংবাদপত্র চিরকালই অগ্রগণ্য। তবে তথ্যের ভিড়ে সত্য যখন মুখ থুবড়ে পড়ে, তখন প্রয়োজন হয় এমন এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরের, যা আপসহীন এবং কালজয়ী। সেই অভাব পূরণে ধ্রুবতারার মতো আবির্ভূত হয়েছে ‘দৈনিক জনকামনা’। এই প্রকাশনার সাফল্যের নেপথ্যে যিনি নিজের মেধা, শ্রম আর স্বপ্নকে উৎসর্গ করেছেন, তিনি আধুনিক কলমযোদ্ধা এক নিভৃতচারী কারিগর মোঃ রেজন মিয়া। তাঁর সুনিপুণ দিকনির্দেশনায় পত্রিকাটি আজ কেবল খবরের কাগজ নয়, বরং গণমানুষের হৃদস্পন্দনে পরিণত হয়েছে।
মূল্যবোধের ভিত্তি ও নামকরণের সার্থকতা
একটি মহৎ বৃক্ষের পরিচয় যেমন তার ফলে, তেমনি একটি সংবাদপত্রের পরিচয় তার দর্শনে। মোঃ রেজন মিয়া যখন এই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করেন ‘দৈনিক জনকামনা’, তখনই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে তাঁর এই সৃষ্টি হবে সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য নিবেদিত এক তপোবন। বর্তমানের ভোগবাদী সমাজে যেখানে সংবাদমাধ্যম অনেক ক্ষেত্রে কর্পোরেট স্বার্থের বেড়াজালে বন্দি, সেখানে ‘জনকামনা’ এক পশলা বৃষ্টির মতো শীতলতা এনে দিয়েছে। জনগণের অধিকার রক্ষা আর শোষিতের হাহাকারকে রাজপথে পৌঁছে দেওয়াই মোঃ রেজন মিয়া’র সাংবাদিকতার মূল সুর।
সত্যের সাধনায় অবিচল নেতৃত্ব
সাংবাদিকতা হলো আগুনের ওপর দিয়ে হাঁটার মতো এক কঠিন পথ। এই পথে মোঃ রেজন মিয়া নিজেকে প্রমাণ করেছেন একজন সুদক্ষ ও নির্ভীক সারথি হিসেবে। বর্তমান সময়ের চটকদার ও হলুদ সাংবাদিকতার প্লাবন যখন মূলধারার মূল্যবোধকে গ্রাস করতে উদ্যত, তখন তিনি সত্যকে আঁকড়ে ধরে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে ‘দৈনিক জনকামনা’ কোনো প্রভাবশালী মহলের রক্তচক্ষুর কাছে মাথা নত করেনি। বরং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে শিরোধার্য করে দুর্নীতির অন্ধকার দূর করতে জ্বেলেছে আশার আলো। তাঁর এই আপসহীন মনোভাবই পত্রিকাটিকে জনমানুষের পরম আস্থার প্রতীকে রূপান্তর করেছে।
মেধা বিকাশ ও সৃজনশীলতার ক্ষেত্র
একজন প্রকৃত নেতার সার্থকতা কেবল নিজের সাফল্যে নয়, বরং নতুন নেতৃত্ব তৈরির দক্ষতায়। মোঃ রেজন মিয়া তাঁর দূরদর্শী চিন্তার মাধ্যমে ‘দৈনিক জনকামনা’কে এক বিশাল কর্মযজ্ঞে পরিণত করেছেন। তিনি কেবল সংবাদ পরিবেশন করেননি, বরং অসংখ্য তরুণ ও সম্ভাবনাময় কলমযোদ্ধার মেধা বিকাশের পথ প্রশস্ত করেছেন। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকদের মাঝে যে পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতার বীজ বপন করেছেন, তা বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। তাঁর ছায়াতলে গড়ে ওঠা এই কলমযোদ্ধারাই আজ ন্যায়ের অতন্দ্র প্রহরী।
আস্থার প্রতিফলন ও আগামীর স্বপ্ন
সংবাদপত্রের প্রকৃত আয়ু নির্ধারণ করে তার পাঠক সমাজ। ‘দৈনিক জনকামনা’ আজ জনপ্রিয়তার যে শিখরে অবস্থান করছে, তার পেছনে রয়েছে পাঠকদের অবিচল ভালোবাসা। মোঃ রেজন মিয়া’র সততা ও কর্মনিষ্ঠা মানুষের হৃদয়ে এমন এক বিশ্বাসের আসন গেঁড়েছে, যা যেকোনো দুর্যোগেও অটল। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে পত্রিকাটি আজ গণমানুষের অধিকার আদায়ের এক অদম্য হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর প্রদর্শিত এই আলোকবর্তিকা আগামীর বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সাহসী প্রতিচ্ছবি হয়ে চিরকাল অম্লান থাকবে।
উপসংহার
মোঃ রেজন মিয়া কেবল একজন প্রকাশক বা প্রতিষ্ঠাতা নন; তিনি একটি বিশ্বাসের নাম, একটি আদর্শের নাম। তাঁর হাত ধরে ‘দৈনিক জনকামনা’ যে সত্যের মশাল জ্বেলেছে, তা যুগ যুগ ধরে আঁধার বিনাশ করবে। এই স্বপ্নদ্রষ্টা মানুষের কর্ম ও চিন্তা আগামীর প্রজন্মের কাছে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আমরা এই গুণী ব্যক্তিত্বের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ‘জনকামনা’ হয়ে উঠুক ইতিহাসের এক অপরাজেয় মাইলফলক।