
মোঃ রায়হান পারভেজ নয়ন
স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নীলফামারী জেলায় ক্রমশ চাঙ্গা হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন। মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাই শেষে চারটি সংসদীয় আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করায় ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ ও আলোচনা এখন তুঙ্গে।
প্রায় ১ হাজার ৮২১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সীমান্তবর্তী জেলা নীলফামারীতে রয়েছে জাতীয় সংসদের চারটি আসন। জেলা প্রশাসনের যাচাই-বাছাই শেষে এসব আসনে মোট ২৪ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেয়েছেন।
নীলফামারী-১ (ডোমার–ডিমলা)
ডোমার ও ডিমলা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই শেষে ৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এই আসনে বিএনপির জোট শরিক বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-এর মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার।
এছাড়া বৈধ প্রার্থীদের তালিকায় আছেন— মেজর (অব.) তছলিম উদ্দিন (জাতীয় পার্টি), সিরাজুল ইসলাম (বিএনএফ), আব্দুল জলিল (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মো. সাদ্দাম হোসেন (খেলাফত মজলিস), মো. রফিকুল ইসলাম (বাসদ-মার্কসবাদী), মো. মখদুম আজম মাশরাফী (জেপি) ও জেবেল রহমান গনি (ন্যাপ)।
নীলফামারী-২ (সদর)
জেলার গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই শেষে ৫ জন প্রার্থী বৈধতা পান। বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী (তুহিন)।
অন্যরা হলেন— অ্যাডভোকেট আল-ফারুক আব্দুল লতীফ (জামায়াত), হাসিবুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), সারোয়ারুল আলম বাবু (খেলাফত মজলিস) এবং সিরাজুল ইসলাম (বিএনএফ)।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাইফুল্লাহ রুবেল ও মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজের মনোনয়নপত্র কাগজপত্রে অসংগতি থাকায় বাতিল করা হয়েছে।
নীলফামারী-৩ (জলঢাকা)
জলঢাকা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে চারজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। যাচাই শেষে বৈধ প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হন বিএনপি মনোনীত সৈয়দ আলী এবং জামায়াত মনোনীত মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী।
জাতীয় পার্টির আমজাদ হোসেন সরকার এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রোহান চৌধুরীর মনোনয়নপত্র ত্রুটির কারণে বাতিল করা হয়।
নীলফামারী-৪ (কিশোরগঞ্জ–সৈয়দপুর)
সবচেয়ে বেশি প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন এ আসনে— মোট ১২ জন। যাচাই শেষে ৮ জন প্রার্থী বৈধতা পান।
বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত মো. আব্দুল গফুর সরকার, জামায়াত মনোনীত মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শহিদুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টির মির্জা মো. শওকত আকবর রওশন।
এছাড়াও নির্বাচনি প্রতিযোগিতায় রয়েছেন জাতীয় পার্টির মো. জয়নাল আবেদীন ও মো. সিদ্দিকুল আলম, বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত মো. মাইদুল ইসলাম এবং এলডিপি মনোনীত নুর মোহাম্মদ।
সার্বিক চিত্র
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্র জানায়, চারটি আসনে মোট ৪৪ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও দাখিল করেন ৩৩ জন। যাচাই-বাছাইয়ে ভোটার স্বাক্ষর ও কাগজপত্রে ত্রুটির কারণে ৯ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানান, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিলের সুযোগ পাবেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নীলফামারীর চারটি আসনেই বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠতে পারে। ফলে মাঠপর্যায়ে প্রচার ও ভোটার সংযোগ আরও জোরালো হচ্ছে।