
কলমেঃ সাহেলা সার্মিন
এশা আজ স্কুল থেকে ফেরার পথে ভয়ানক এক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলো। অপরিচিত এক মহিলা ওকে নিজের দিকে আকর্ষণ করার চেষ্টা করছিলো। ওর মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে ঠিকানা জানতে চাইছিলো। ও মহিলার হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে কলেজের গেটের একপাশে লুকিয়ে থেকে সুযোগ পেয়ে ও ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে এক দৌড়ে বাসায় চলে এসেছে। সাথে অবশ্য ওর বান্ধবী সেতুও ছিলো।
আসলে আমরা মেয়েদেরকে নিজেকে সেইফ করার শিক্ষা দেইনা। সাহস নিয়ে পথ চলা এবং কোনো ঘটনার মোকাবেলা করার জন্য শিক্ষা বা উৎসাহ কোনোটাই দেইনা। এতে তারা ভেড়া আর ছাগল হয়েই থাকে। বাঘ বা সিংহ হতে পারে না। এজন্য দায়ী আমরা। আমরা মেয়েদেকে অন্দরে লুকিয়ে রাখতে চাই। এটা করো না, এখানে এসো না, ওখানো যেও না ইত্যাদি নিষেধের বেড়াজালে আটকে রাখাটা সমাজের একটা রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে নুসরাত ফারিয়ার মতো অবস্থা আমার -আপনার মেয়েরও হতে পারে।
আজকাল মানুষ চেনা দায় হয়ে পড়েছে। বাহিরের সাজ সজ্জা দেখে বোঝা যায় না, তার মনে কি চলছে। অতি আপন, কাছের মানুষ, একই পরিবারে বসবাস অথচ তাকেও আমরা চিনতে পারিনা। সেকারণেই যুগে যুগে “ঘরের শত্রু বিভীষণে”র নব জন্ম হয়।
এশা প্রতিদিন বড় করে হাফ ছেড়ে পেশি ও বফু ফুলিয়ে নিজের শক্তি বৃদ্ধি করে। বলে, আমি আর ভয় পাবো না। আমার অনেক শক্তি, অনেক সাহস। কালও আমি স্কুল থেকে একাই ফিরবো। আমার কিছুই হবেনা। তানাহলে সেতুর সাথে আসবো, না হয় ম্যামের সাথে আসবো। ম্যাম আমাকে এগিয়ে দিয়ে যাবে।
এভাবে বেশ কয়েকদিন ওকে একা একাই আসার সুযোগ দিয়েছে ওর মা। কিন্তু ওর বাবা সাহস পায়না। যদি একটা দুর্ঘটনা ঘটে যায়, পরেতো কিছুই করার থাকবেনা। ওকে এভাবে একা ছেড়োনা। দিনকাল ভালো না। সব সময় মেয়ের সাথে সাথে থাকার চেষ্টা করবে।
এভাবেই চলছে, কোনোদিন মায়ের সাথে,কোনোদিন বাবার সাথে, কোনোদিন বা একাই বাসায় ফিরে এশা। আজ সে ভয়কে জয় করতে শিখেছে।