কলমেঃ জাসমিনা খাতুন
নির্জন প্যাঁচার মতো আমি একা—রাত নামলেই বিছানাটা বড়ো ফাঁকা।
দেয়ালঘড়ির টিকটিক শব্দ,
মনের ভেতর একটা শূন্যতা।
মা, আমাকে ঠান্ডা লাগছে—
কম্বলটা আছে, কিন্তু তোমার কোলটা নেই।
মা, আমাকে খুব ক্ষুধা লাগছে—
ভাত পাই, কিন্তু তোমার হাতের গন্ধটা পাই না।
মা, আমাকে মা-ই লাগছে—
এই ঘরে এত বাচ্চা,
কিন্তু আমার কান্নার শব্দটা
কেউ ঠিকমতো শোনে না।
মা, আমাকে বোন লাগছে,
ভাই লাগছে, বাড়ির উঠোনটা লাগছে—
মেঠো রাস্তা ধরে
স্কুল থেকে ফিরতে ফিরতে তোমাকে দেখার
যে ছোট্ট আনন্দটা ছিল—
ওটাই এখন সবচেয়ে বেশি কাঁদায়।
মা, তুমি কি জানো?
রাতে আলো নিভে গেলে
আমি আঁধারের দিকে তাকিয়ে থাকি—
ভাবি, তুমি কি তখনও জেগে আছো?
নাকি ঘুমের ভেতর আমার নামটুকুও হারিয়ে যায়?
মা, আমাকে ছেড়ে
তোমার কাছে কি আমি
একটুখানি কম হয়ে গেলাম?
নাকি যোগ্যতার হিসেবটাই
আমাদের মাঝখানে দেয়াল তুলে দিল?
আমি জানি, তুমি কষ্ট পাও—
তবুও না বলেও বলি—
মা, আমি আজ বড্ডো একা।
স্কুলের মাঠ, ক্লাসরুম, বন্ধু—
কিছুই সেই শূন্যতা ভরাতে পারে না।
শুধু রাতে জানলার ওপারে
একটা প্যাঁচা ডাক দেয়—
আমি মনে মনে বলি,
প্যাঁচা,ও প্যাঁচা;ও প্যাঁচা একটু ডেকে দিও তো,
আমার মাকে—
বলো, ওর সন্তানটা একা হয়ে গেছে, খুব একা হয়েগেছে।