আল আমিন হাওলাদার, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:
মানবতার আলোয় আবারও ফিরে এলো একটি জীবনের হাসি, একটি পরিবারের স্বস্তি। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের সাকুয়া ইন্দ্রপুর গ্রামের গয়টার রোগে আক্রান্ত লালবানু (৫০) দীর্ঘ চিকিৎসা ও সফল অস্ত্রোপচারের পর গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।
লালবানু খালার চিকিৎসা যাত্রার শুরুটা ছিল ভীষণ কষ্টের। গত ৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে লেঙ্গুরায় আয়োজিত একটি ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে তিনি চিকিৎসা নিতে আসেন। শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন—জরুরি অপারেশন ছাড়া তাঁর বেঁচে থাকার আর কোনো উপায় নেই। এই কথা শুনে মুহূর্তেই ভেঙে পড়েন লালবানু খালা। চোখের জল আর অসহায়তার ভার নিয়ে তিনি সাহায্যের আশায় ছুটে যান ব্যারিস্টার কায়সার কামালের কাছে এবং আকুল কণ্ঠে জানান, অপারেশন না হলে তাঁর জীবন সংকটের মুখে পড়বে।
মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ও মানবিক রাজনীতির আদর্শ থেকে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল—আইন বিষয়ক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব এবং বিএনপির ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী, সেই মুহূর্তেই লালবানু খালার চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তব উদ্যোগের মাধ্যমেই তিনি প্রমাণ করেন—মানবতার সেবাই তাঁর রাজনীতির মূল শক্তি।
পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে লালবানু খালাকে ময়মনসিংহের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দুশ্চিন্তা, প্রিয়জনদের দোয়া আর চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে অবশেষে ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাঁর সফল অপারেশন সম্পন্ন হয়। অপারেশনের পর কয়েক দিন চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে।
অবশেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার দিনে লালবানু খালার চোখে ছিল আনন্দাশ্রু, আর পরিবারের প্রতিটি মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। লালবানু খালার পরিবার আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁর মানবিক সহায়তা ও আন্তরিক উদ্যোগ না থাকলে হয়তো আজ এই খুশির দিনটি তাদের জীবনে আসত না।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন,-মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোই আমাদের রাজনীতির প্রকৃত সৌন্দর্য। ক্ষমতা নয়, মানুষের ভালোবাসাই আমাদের শক্তি। লালবানু খালা যেন সুস্থ থেকে বাকি জীবনটা সুন্দরভাবে কাটাতে পারেন—এই দোয়াই আমি সবার কাছে চাই।
মানবিক মূল্যবোধ, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের এই অনন্য দৃষ্টান্ত এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, এমন মানবিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে এবং মানবতার রাজনীতির প্রতি আস্থা বাড়িয়েছে।