কলমেঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
পরমাণু বোমার জনক "রবার্ট ওপেনহাইমার" কেঁদেছিলেন ১৯৪৫ সালের ৬ ই ও ৯ই আগষ্ট
যখন হিরোশিমা নাগাসাকি তে মার্কিন পরমাণু হামলায় প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ স্পটে মারা যায়! তার থেকে ভয়াবহ হতে যাচ্ছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ! তখন শুধু আমেরিকার পরমাণু অস্ত্র ছিলো, আজ অন্তত ৪৫ টা দেশের হাতে পরমাণু বোমা আছে!
প্রিয় পাঠক, একটা মাত্র দেশ "আমেরিকার" জন্য শান্তময় বিশ্ব যে-কোন সময় ধূলায় মিশে যেতে পারে! আমেরিকা ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট কে তাদের সার্বভৌমত্ব গনতন্ত্র মানবতা মনুষ্যত্বের তোয়াক্কা না করে কমোডো স্টাইলে হাইজ্যাক করে নিয়ে গেছে, দেশ আমেরিকা পরিচালনা করবে বলে নির্লজ্জের মত ঘোষণা দিয়েছে! সারা বিশ্ব নিন্দা জানাচ্ছে, এরপরে ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো কে হুমকি দিচ্ছে, পরশু ভারতের সাথে WAR PCKED করলো, গতকাল ভারত কে ৫০০% ট্যারিফ ধরে দিয়ে বশ্যতা স্বীকারের ইঙ্গিত দিয়েছে!
প্রিয় পাঠক, ভ্যানিজুয়েলা থেকে ইরান ফিলিস্তিন থেকে ইউক্রেন সিরিয়া থেকে বাংলাদেশ পুরাটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ফিল্ড এবং দখল পরিকল্পনার আওতায়!
আসল কথায় আসি ---
রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজ আটক করে ট্রাম্প সরকার বাঘের লেজে কান চুলকানোর শখ করে দারুন ফাঁদে পড়েছেন! রাশিয়া তিনটা সাগর মার্কিন ও যুক্ত রাজ্যের পতাকা জাহাজ দেখা মাত্র ডুবিয়ে দিতে বলেছে। নিচে রাশিয়ার পরমাণু সাবমেরিন, উপরে যুদ্ধ জাহাজ টহল দিচ্ছে। ব্লাক সাগর, বাল্টিক সাগর, উত্তর সাগর দিয়ে পশ্চিমা সব দেশের অয়েল ট্যাঙ্কার আসাযাওয়া করার পথ বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়া ! আগেই নর্থ স্ট্রীম - ২ ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে জার্মান রাশিয়ার তেল-গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে ইউরোপ কে দুর্ভিক্ষে ঠেলে দিয়েছে। জার্মান সেই থেকে আমেরিকার উপর ক্ষেপে আছে। আজ ইউরোপের দ্রব্য মূল্য ৭ গুন বৃদ্ধি। NATO দেশগুলো কে বোঝা উচিত আমেরিকা কারো বন্ধু না! বাংলাদেশের "মুজিব" বলেছিলেন, আমেরিকা বন্ধু হলে তার আর শত্রুর দরকার পড়ে না!" তাকিয়ে দেখুন আমাদের সৎ ভাই পাকিস্তানের দিকে!
রাশিয়ার হাতে আছে যত পরমাণু মিশাইল সবই ১১ হাজার কিলোমিটার দূরত্বে নির্ভুল আঘাত হানতে পারে।
সর্ব দূরত্বে যেতে পারে ১৮ হাজার কিলোমিটার যা গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে, রাডার ফাঁকি দিতে পারে, নির্ভুল টার্গেট আঘাতে সক্ষম, শব্দের থেকে নয় গুন দ্রুত তার গতি।
উল্লেখ্য, মস্কো থেকে হোয়াইট হাউজের দূরত্ব মাত্র ৮ হাজার কিলোমিটার। জ্ঞাত করছি রাশিয়া, উপগ্রহ প্লুটো থেকে ও বড় দেশ যার এক প্রান্ত ইউরোপে অন্য প্রান্ত এশিয়ায়, যে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যে ১১ টা টাইম জোন অতিক্রম করতে হয় অর্থাৎ ১১ বার ঘড়ির টাইম সেট করতে হয়! আলেকজান্ডার রাশিয়া আক্রমণ না করে ফেরৎ গেছিলেন! মিঃ ট্রাম্প কিছু ভুল করছেন না তো?
সব অস্ত্রের থেকে বড় অস্ত্র রাশিয়ার হাতে এবং তাকে বলে EERGY WEAPONS, যা সমস্ত ইউরোপ কে ঠান্ডায় মারতে পারে। রাশিয়া ইরান মধ্য প্রাচ্য তেল সমৃদ্ধ দেশ, ইউরোপ নয়!
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়?
যদি ম্যাথামেথিক্যালি ক্যালকুলেশন করা হয় তা হলে বাংলাদেশ দুই বৃহৎ শক্তির মাঝ খানে হওয়ায় ১৮ কোটি লোকের মৃত্যু অনিবার্য হতে পারে। তারপর আবার আমরা শখ করে নাকে ছিদ্র করেছি জেওর পরবো বলে!
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিমান কি বাংলাদেশ বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবে?
বাংলাদেশ কি যুক্তরাষ্ট্রে কে করিডর দিয়েছিলো, সেন্ট মার্টিন, কুতুবদিয়া বা চিটাগং পোর্ট নিয়ে কোন চুক্তি কি হয়েছে। করিডরেের বিষয় সরকারের সাথে দ্বিমত পোষন করেছিলেন "দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনী ও তাদের নিয়ন্ত্রক সেনাপ্রধান।" তারপর কি হলো --- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কে বিরত করার শক্তি আমাদের কতটুকু? এমন হাজার কিছু ভাববার আছে!
বাংলাদেশ কে WAR FIELD বা ঘাটি না করলে হয় মার্কিন সরকার! তবুও দুই পরাশক্তির বিশ্বযুদ্ধের পরমাণু আঘাতের Chemical Reaction থেকে আমরা কি বাঁচতে পারবো? তা শুধু সৃষ্টি কর্তা জানেন!
রাশিয়া তার সব পরমাণু বোমা এবং মিশাইলে ওয়ার হেড সংযোজন সহ পরীক্ষানিরীক্ষা শেষ করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত! সাথে আছে চীন ভারত ইরান ল্যাটিন আমেরিকার ৩৬ দেশ, আফ্রিকার দেশগুলো, নাইজার তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কে আগ্রাসন বাদী বলেছে!