
খুলনা প্রতিনিধি:
ডিজিটাল যুগে অনলাইন কেনাকাটা সহজ হলেও প্রতারণার ঝুঁকিও দিন দিন বাড়ছে। অনলাইন প্রতারণার এমনই এক ঘটনার শিকার হয়েছেন খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বাসিন্দা রত্না সরকার। তিনি অভিযোগ করেছেন, “কাকলি ফার্নিচার” নামে একটি অনলাইন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সোফা কাম বেড বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে।
ভুক্তভোগী রত্না সরকার জানান, অনলাইনে একটি আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে তিনি একটি সোফা কাম বেড (৩ ফিট × ৬ ফিট) অর্ডার দেন। প্যাকেজের মধ্যে একটি মাথার বালিশ ও একটি বিছানার চাদর দেওয়ার কথা বলা হয়। সম্পূর্ণ প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩,৯৯৯ টাকা।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিক্রেতার সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি অত্যন্ত সুআলাপি ও বিশ্বাসযোগ্য আচরণ করেন। নিজের সততা প্রমাণের জন্য তিনি নিজের নামে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি, ক্যাশ মেমো ও অর্ডার আইডি পাঠান। কাগজপত্রে বিক্রেতার নাম হিসেবে উল্লেখ ছিল মোঃ আল-আমিন খান এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম “কাকলি ফার্নিচার, ঢাকা (নারায়ণগঞ্জ, চাষাড়া)”। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর হিসেবে দেখানো হয় ৫০৫৫৯৮০৫০১। অর্ডার আইডি দেখানো হয় ৩৬৯।রত্না সরকারের কাছ থেকে যে নাম্বারে বিকাশে টাকা নিয়েছেন
01832625092 এই সব তথ্য দেখে বিশ্বাস স্থাপন হলে ভুক্তভোগী ৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রথমে ১,০০০ টাকা অগ্রিম প্রদান করেন। পরবর্তীতে পণ্য কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো হবে এই আশ্বাস দিয়ে ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আরও ৩,০০০ টাকা গ্রহণ করা হয়। এভাবে মোট ৪,০০০ টাকা নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে কোনো পণ্য সরবরাহ করা হয়নি।
রত্না সরকার জানান, টাকা নেওয়ার পর বিক্রেতা কুরিয়ারে পণ্য পাঠানো হয়েছে বলে জানালেও কোনো ট্র্যাকিং নম্বর দেননি। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও বিক্রেতার সঙ্গে আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। এতে তিনি নিশ্চিত হন যে তিনি একটি পরিকল্পিত অনলাইন প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
তার অভিযোগ, প্রদর্শিত জাতীয় পরিচয়পত্র, রশিদ ও ঠিকানার তথ্য জাল হতে পারে অথবা অন্য কারও পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ভোটার আইডি ও কাগজপত্র দেখালে একজন সাধারণ ক্রেতার পক্ষে প্রতারণা বোঝা খুবই কঠিন।”
ভুক্তভোগী বিষয়টি আলো মিডিয়া গ্রুপের সভাপতি ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আহমেদ হোসাইন ছানু-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং এ ধরনের অনলাইন প্রতারণার বিরুদ্ধে গণমাধ্যম ও প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছেন।
তিনি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, প্রদত্ত তথ্য যাচাই করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এমন প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষ রক্ষা পাবে।
শেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অনলাইনে পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে সবাই যেন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেন এবং যাচাই ছাড়া কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেনে জড়িত না হন।
ভুক্তভোগীর পরিচয়:
নাম : রত্না সরকার
ঠিকানা : বটিয়াঘাটা, ছাচিবুনিয়া,
তারকা মাদ্রাসা রোড, আমেরিকান বাড়ির বিপরীতে,
স্কুলভিটা, গল্লামারি, খুলনা।