শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
খুলনা আর্ট একাডেমির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি অর্জনে গর্বিত প্রতিষ্ঠান মানবিকতার আলোকবর্তিকা স্পেশাল ব্রাঞ্চের মানবিক সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে ক্লাসিক চেস্ ক্লাবের সম্মাননা কবিতাঃ জীবন কবিতা নিয়ামতপুরে সরস্বতী পূজা উদযাপিত জগন্নাথপুরে গণভোটের পক্ষে উৎসাহিত করলেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক গ্রেটার ইসরায়েল শখ মুছে গেলো! জগন্নাথপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের গণসংযোগ, ভোটারদের ব্যাপক সাড়া বিদ্যুৎ ফাউন্ডেশন: মানবতার আলোর পথে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহবান শোডাউনের মধ্যদিয়ে প্রচারণা শুরু করলেন তুহিন মোরেলগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিপিকে গণসংবর্ধনা, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন- অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম

ডিমলায় সেনা সদস্য দ্বারা কলেজছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় উল্টো জেল হাজতে ভুক্তভোগীসহ পরিবারের ৪ জন

Coder Boss
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৫ Time View

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নীলফামারী-১ (ডোমার–ডিমলা) আসনে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। কলেজ পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তকে রক্ষা করতে গিয়ে উল্টো ধর্ষিতা ও তার পরিবারের চার সদস্যকে জেল হাজতে পাঠানোর অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডিমলা উপজেলার টেপা খড়িবাড়ি ইউনিয়নের জটুয়া খাতা (কলোনীপাড়া) গ্রামের হাবেল মিয়ার কন্যা, এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোছা. হামিদা আক্তার (১৯) গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে নিজ বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের শিকার হন। অভিযুক্ত আলী হাসান (২৩) একই ইউনিয়নের দক্ষিণ খড়িবাড়ির তেলীর বাজার এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে এবং বর্তমানে ঢাকা সাভার ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত একজন সেনা সদস্য।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘ তিন বছর ধরে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও ঘটনার রাতে দেখা করার কথা বলে মো,আলী হাসান জোরপূর্বক তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে হামিদাকে ধর্ষণ করেন। হামিদার মা মো, রহিমা বেগম ঘটনাটি দেখে চিৎকার করলে এলাকাবাসী ঘটনা স্থানে এসে অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করে। পরে রাতভর সালিশ ও সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ভোররাতে আসন্ন সংসদ নির্বাচনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী লেঃ কর্নেল (অব.) মো.তছলিম উদ্দিনের নাম ও সিল ব্যবহার করে তাঁর প্রতিনিধি এবং উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মো. মাজেদ পাটোয়ারী ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের নাটক সাজান। অভিযুক্তের পিতা দেলোয়ার হোসেনকে দিয়ে একটি সুপারিশকৃত এজাহার তৈরি করে তা থানায় দাখিল করা হয়।
অন্যদিকে, ধর্ষিতার চাচা মো. রোস্তম আলী প্রকৃত ঘটনার বিবরণ দিয়ে ডিমলা থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শওকত আলী সরকার ধর্ষণকারীর পক্ষে দাখিলকৃত অভিযোগ আমলে নিয়ে উল্টো ধর্ষিতা মোছা, হামিদা আক্তারসহ তার পরিবারের চার জনকে গ্রেপ্তার করেন এবং অভিযুক্ত আলী হাসানকে অপহৃত ভিকটিম উদ্ধার’ দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ধর্ষিতা মোছা. হামিদা আক্তার (১৯), গাজিউর রহমান (৫০), মো. আবুল হোসেন (৫৫) ও মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৬)।

ডিমলা থানার মামলা নং–১০, তারিখ ১৩/০১/২৬ ইং। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনী সময়ে একজন প্রার্থীর প্রতিনিধি সরাসরি বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করায় এটি নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শওকত আলী সরকার বলেন, সেনা সদস্যের পিতা দেলোয়ার হোসেনের দাখিলকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। সুপারিশকৃত অভিযোগ নথিভুক্তের বিধান না থাকায় তা সংশোধন করে নতুন এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে।

ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবিতে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল অবিলম্বে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102