
লেখক: সাবিত রিজওয়ান
আমি সমাজচেতনা ফাউন্ডেশনের মালিক হতে চাই না। আসলে “মালিক” শব্দটাই আমার অস্বস্তি লাগে। এখানে আমি ক্ষমতা খুঁজিনি, নিয়ন্ত্রণ চাইনি, সংখ্যা দিয়ে নিজেকে বড় করার ইচ্ছাও ছিল না। আমি শুধু চেয়েছিলাম, কিছু মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজের জন্য ভালো কিছু করার একটা চেষ্টা করতে।
১৬ শতাংশ থাকলেই আমার জন্য যথেষ্ট ছিল। কারণ আমি প্রতিষ্ঠাতা হয়ে নয়, তরুণ বন্ধু হয়ে থাকতে চেয়েছি। আমি চাই না মানুষ আমাকে পদ দিয়ে চিনুক। আমি চাই মানুষ আমাকে মানুষ হিসেবেই মনে রাখুক। আমি মারা গেলে কেউ যদি আমার জন্য দোয়া করে, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
এই ফাউন্ডেশন কখনোই একার ছিল না। মাইদুল, নাইম, কানন, শাহজালালসহ অনেকের শ্রম, সময় আর বিশ্বাস এতে জড়িয়ে আছে। আমি জানি, কেউ একা কিছু গড়ে না। আমিও একা কিছু করিনি। এই জায়গাটা গড়ে উঠেছে সম্পর্ক দিয়ে, হিসাব দিয়ে নয়।
তবু একটা জায়গায় এসে আমি ভেতরে ভেতরে ভেঙেছি। কমিটি গঠন, নির্বাচন, সিদ্ধান্ত সব হয়েছে আমার সঙ্গে বসে না, কথা না বলে। দুইদিন আগে শুনি নির্বাচন হবে। তখন আর বলার কিছু থাকে না। যেখানে আলোচনা নেই, সেখানে অংশগ্রহণও অর্থহীন হয়ে যায়।
আমার চাওয়া ছিল কিছু মানুষ সামনে আসুক, যারা দায়িত্ব নিতে পারবে, সম্পর্ক ধরে রাখতে পারবে। সেটা ছিল পদ পাওয়ার রাজনীতি না, ছিল ভারসাম্যের কথা। কিন্তু আমার সেই কথাগুলো গুরুত্ব পায়নি। এই কষ্ট থেকেই আমি নির্বাচনের দিন মাঠে যাইনি। রাগে না, বিদ্বেষে না, শুধু ভেতরের ভাঙন থেকে।
তবুও আমি কখনো বাধা দিইনি। কারণ আমার কাছে কাজটাই মুখ্য। সমাজের উপকার হোক, সেটাই আমার চাওয়া ছিল, এখনও আছে। আমার নাম থাকুক না থাকুক, তাতে আমার ক্ষতি নেই। কিন্তু সম্পর্ক ভেঙে গেলে, বিশ্বাস নষ্ট হলে, সেটা আমার কাছে বড় ক্ষতি।
আমি রাজনীতির মানুষ নই। আমি ক্ষমতার মানুষ নই। আমি সেই মানুষ হতে চাই, যে পাশে থাকে, চুপচাপ থাকে, কিন্তু প্রয়োজন হলে দাঁড়ায়। তরুণ বন্ধু হয়ে থাকতে চাই, নেতা হয়ে নয়।
আমি চাই সমাজচেতনা ফাউন্ডেশন এগিয়ে যাক। বড় হোক। মানুষের কাজে লাগুক। আর আমি চাই, এই যাত্রায় কেউ কাউকে ছোট না করুক, বাদ না দিক, অপ্রয়োজনীয় মনে না করুক।
আমার চাওয়া খুব সাধারণ। আমি মালিক হতে চাই না। আমি মানুষ হয়ে থাকতে চাই।