
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ধর্ম অবমাননার প্রতিবাদ করাই কি এখন অপরাধে পরিণত হয়েছে? নাকি অপরাধীদের রক্ষা করাই প্রশাসনের নীরব নীতিতে রূপ নিয়েছে? রাজধানীতে সংঘটিত এক ভয়াবহ ঘটনা আজ সেই প্রশ্নই সামনে এনে দিয়েছে।
গত ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার বিকাল ১টা ৫০ মিনিটে পল্টন মেট্রোরেল স্টেশনের সিঁড়ির পাশে প্রকাশ্যে এক ব্যক্তি টুপি পদদলিত করে এবং ইসলাম ধর্মকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কবি এম.কে. জাকির হোসাইন বিপ্লবী এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানান। পথচারীদের সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে কারণ জানতে চাইলে সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
তদন্তের স্বার্থে কবি জাকির যখন স্মার্টফোন হাতে নেন, তখনই হামলাকারী তার ওপর হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রথম আঘাতে ফোন ছিটকে পড়ে যায়, দ্বিতীয় আঘাত লাগে সরাসরি চোখ ও মুখে। প্রকাশ্যে রক্তাক্ত হন একজন কবি—একজন সচেতন নাগরিক।
পথচারীরা বাধ্য হয়ে হামলাকারীকে সচিবালয়ের সামনে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু এখানেই ঘটে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা—আইনের মৃত্যু।
পুলিশ হামলাকারীকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ আখ্যা দিয়ে ছেড়ে দেয়। অথচ আহত কবিকে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রশ্ন উঠছে—যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে ধর্ম অবমাননা করে, হামলা চালায় এবং একজন মানুষকে রক্তাক্ত করে, সে কীভাবে শাস্তির বাইরে থাকে?
জনতার প্রশ্ন স্পষ্ট— পাগল হলে চিকিৎসা নেই কেন? আর সুস্থ হলে গ্রেপ্তার নেই কেন? আইন কি কেবল ভুক্তভোগীর জন্য?
ঘটনার পর জনতার বিপ্লব ২৪ পত্রিকার উপদেষ্টা, অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট কাজী আলম বলেন, “এটি সন্ত্রাসী হামলা। হামলাকারীকে ছেড়ে দেওয়া মানে অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া। পুলিশকে এর জবাব দিতেই হবে।”
সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এই ঘটনা শুধু একজন কবির ওপর হামলা নয়—এটি ধর্মীয় মূল্যবোধ, মতপ্রকাশের অধিকার এবং আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত।
আজ এম.কে. জাকির হোসাইন বিপ্লবী আক্রান্ত, আগামীকাল যে কেউ হতে পারে।
এখনই প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহিতা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। নচেৎ ইতিহাস প্রশ্ন করবে—অপরাধ যখন রাজপথে দাঁড়িয়ে ছিল, তখন রাষ্ট্র কোথায় ছিল?