কলমেঃ শামীমা তালুকদার
ঘন কুয়াশায় ভরা আঁধার কালো রাত,
আকাশে নেই কোন তারা, আঁধারে ঢেঁকেছে চাঁদ।
আছে শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ,
দুর থেকে ভেসে আসছে শেয়ালের ডাক।
নীরব চোখে চেয়ে থাকি
জানালার ধারে দাড়িয়ে,
আঁধারেই হাত বাড়িয়ে
কিছু পাবার আশায়।
কি পেলাম?আর কি আছে বাকি?
নিশি রাতে বসে ভাবি,
মনে জাগে ভয়,সঙ্গে যদি
কিছু না নিতে পারি।
নিস্তব্ধ চারিদিকে নিভু নিভু লন্ঠনের আলো,
আবারো বসে যাই জীবনের সমীকরণে,
শূন্য খাতায় পূর্ণতার কালিতে
ব্যস্ত থাকি হিসেব মিলাতে।
রাত শেষে ভোর নামে বিহঙ্গের কলতান হয় কর্ণদ্বয়,
তবুও পারিনা উত্তর মিলাতে।
অংকে যে আমি বড়ই কাঁচা
সব সূত্র প্রয়োগের পরেও:
জীবনের হিসেব রয়ে গেলো
শূন্যের দাঁড় গোড়ায়।
বৃথা হলো চেষ্টা আমার,
বৃথায় সময় নষ্ট,
ধরিত্রী চলেছে তার নিয়মে,
রাত্রি শেষে প্রভাতের আগমনে।
আমি ব্যস্ত থাকি রোজ নিশি রাতে,
জীবনের হিসেব মিলাতে,
অংক তো নয় সোজা
ভুল সূত্রে মিলাতে পারিনি উত্তর।
দেখতে দেখতে বয়স যে হলো পার,নুয়ে পড়েছে সোনার দেহ,
চোখে এখন মোটা ফ্রেমের চশমা, হাতে পড়েছে চামড়ার ভাঁজ:
তবুও জীবনের হিসেব
মেলাতে ব্যস্ত থাকি রোজ।
অতিক্রম হলো জীবনের দিন মাস বছর, মিলাতে পারিনি জীবনের হিসাব,তবে কি বৃথায় গেল আমার চেষ্টা?
সময় যে ক্ষীণ মেলাতে
হবে সব হিসেব, ধরিত্রীর বহমান রীতি
ছাড়তে হবে এই খোলস!
লাঠির ভরে চলছে জীবন, এখনো পারিনি মিলাতে জীবনের হিসাব।