
মোঃ রায়হান পারভেজ নয়ন,
স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী
নীলফামারীর সদর উপজেলার সিংদই গ্রামে তিস্তা সেচ ক্যানেলের দিনাজপুর খালের বাঁধ ভেঙে শতাধিক একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে কামারপাড়া এলাকায় ক্যানেলের ডানপাড়ের বাঁধে এই ভাঙনের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ২০ ফিট দীর্ঘ বাঁধ ধ্বংস হয়েছে। এতে সরিষা, বোরো চারা, ভুট্টা, আলু এবং অন্যান্য রবি ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুর রহমান জানান, চলতি বোরো মৌসুমে (খরিপ-১) ১৫ জানুয়ারি থেকে ক্যানেলের পানি দেওয়া শুরু হয়েছিল। কৃষকরা বোরো চাষের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন ফসলের জন্য সেচ দিচ্ছিলেন। এ অবস্থায় বাঁধ ভেঙে তার সহ পার্শ্ববর্তী শতাধিক একর জমি প্লাবিত হয়েছে।
অন্য কৃষক শরিফ ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম জানান, ২০১৫ ও ২০২৪ সালে পূর্বেও ক্যানেলের বাঁধ ধ্বংস হয়েছিল। এবারও সেরকমই ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা নীলফামারী-পঞ্চপুকুর সড়ক অবরোধ করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন।
সিংদই গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, দ্রুত বাড়ি থেকে এসে দেখি আমার ১০ বিঘা জমির ফসল পানির নিচে ডুবে গেছে। সেই সঙ্গে ৮০ হাজার টাকার ঋণে লাগানো পাঁচ বিঘা আলুর ক্ষেতও শেষ। অন্য কৃষক রজব আলী অভিযোগ করেন, ক্যানেলের পাড় প্রতি বছর শুধু নামমাত্র সংস্কার করা হয়, ফলে বারবার ভাঙনের ঘটনা ঘটছে।
নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে বাঁধে ঈঁদুরের গর্ত থাকায় সেচের পানি দেওয়ার সময় পাড় ধ্বংস হয়েছে। আমরা দ্রুত মেরামত করে সেচ কার্যক্রম পুনরায় চালু করার চেষ্টা করবো। তবে রংপুর ও বগুড়া ক্যানেলে সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।”
দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ থেকে চলতি বোরো মৌসুমে ৫৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হবে। এর মধ্যে নীলফামারীতে ৩৭,৩০০ হেক্টর, রংপুরে ১২,৫০০ হেক্টর এবং দিনাজপুরে ৭,২০০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পাওয়া যাবে। কমান্ড এলাকায় কৃষকরা মে মাস পর্যন্ত বোরো ও রবি মৌসুমের জন্য সেচ পাবেন।