লেখক: সাবিত রিজওয়ান
ভালো কিছু করার আগে বা কল্যাণমূলক কাজ শুরুর আগে মুসলিমরা বলে থাকেন ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’। এটি শুধু আধ্যাত্মিক প্রার্থনা নয়; এটি নৈতিকতার প্রতীক, দায়িত্ববোধের দিকনির্দেশ এবং আল্লাহর সাহায্যের প্রার্থনা। চাইলে অন্য ধর্মের মানুষও নির্দ্বিধায় এটি উচ্চারণ করতে পারেন, কারণ এটি মানুষের নৈতিক মনোভাবকে সমর্থন করে।
২০২৬ সালে আয়োজিত হতে যাওয়া গণভোটে আমাদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান এসেছে। ‘হ্যাঁ’ হলো জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন সংবিধানকে সমর্থন করার প্রতীক। নতুন সংবিধান মানে সংস্কার ও উন্নয়ন। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, হ্যাঁ সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ লেখা নেই। এমনকি জুলাই সনদের শুরুতে ও নেই।
প্রশ্ন ওঠে—কেন সংবিধানের সূচনাতে এটি রাখা হয়নি? পুরাতন সংবিধান বা ‘না’ সংবিধানে থাকলেও নতুন সংবিধানে কেন বাদ দেওয়া হলো? যারা সংবিধান রচনা করেছেন, তাঁদের বিবেকবুদ্ধি কি এ বিষয়ে ব্যর্থ হয়েছে? এই সিদ্ধান্ত অনেকের মনে আঘাত এনেছে।
আমাদের দাবি স্পষ্ট। গণভোটের আগে ‘হ্যাঁ’ সংবিধানের শুরুতেই ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ অন্তর্ভুক্ত হোক। এটি সংবিধানকে শুধু আইনি নয়, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দিক থেকেও সমর্থনযোগ্য করে তুলবে। সংবিধান কেবল আইন নয়, এটি দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ, ন্যায়পরায়ণ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রতীকও।
ন্যায়, সততা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে মিল রেখে সংবিধান রচিত হওয়া এখন সময়ের দাবি। গণভোটের আগে এটি প্রতিফলিত হওয়াই নৈতিক ও যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত।