
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সবচেয়ে বড় নলুয়ার হাওরসহ ১২টি হাওর ও নন হাওরে উৎপাদিত আগাম বোরো ফসল অকাল বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে ৩৭টি পিআইসি প্রকল্পের মাধ্যমে বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল গত ডিসেম্বরে। এতে সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া হয় ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা। তবে এখনো অনেক প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি। আবার কোথাও কাজ চলছে।
২১ জানুয়ারি বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, কোথাও কাজ শুরুই হয়নি। আবার কোথাও কাজ চলছে। নলুয়ার হাওরের পশ্চিমপ্রান্ত দাসনোয়াগাঁও, ভুরাখালি থেকে বেতাউকা গ্রাম পর্যন্ত ১২টি পিআইসি প্রকল্প পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ৬, ৭, ৮, ৯ ও ১১ প্রকল্পে এখনো কাজ শুরুই হয়নি। এ সময় সংশ্লিষ্ট পিআইসি কমিটির লোকজনদের মধ্যে কেউ বলছেন হাওরে মাটির অভাবে কাজ করা যাচ্ছে না। কেউ বলছেন মাটি নরম থাকায় গাড়ি চলছে না। কেউ বলছেন ২/১ দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। তবে অনেকের প্রকল্পের গোড়ায় মাটিকাটার এস্কেভেটর ও ড্রামট্রাক গাড়ি বসে থাকতে দেখা যায়।
যদিও ২, ৩, ৪, ৫, ১০, ১২ ও ১৩নং প্রকল্পে মাটিকাটার কাজ চলছে। এসব প্রকল্পের পিআইসি কমিটির মধ্যে অনিল দাস ও আলামিনসহ কয়েকজন জানান, আমরা বৃষ্টির আগে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। এদিকে-নলুয়ার হাওরের জমিতে লাগানো ধানের চারায় কেউ হালিবাচ দিচ্ছেন। কেউ জমিতে সার ছিটাচ্ছেন। কেউবা জমিতে মেশিন দিয়ে পানি সেচ দিতে দেখা যায়। কৃষকেরা রীতিমতো জমির পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও নলুয়ার হাওর বেষ্টিত ইউনিয়ন চিলাউড়া-হলদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো.শাহিদুল ইসলাম বকুল জানান, আমরা চাই জনস্বার্থে হাওরজুড়ে সকল প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হোক। সরকারিভাবে বেধে দেয়া নির্ধারিত সময়ের আগেই দ্রুত বাঁধের কাজ শেষ করতে হবে। যাতে হাওরে উৎপাদিত বোরো ফসল নিয়ে সম্মানিত কৃষক ভাইয়েরা চিন্তা ও শঙ্কামুক্ত থাকেন।