স্টাফ রিপোর্টার:
সাহিত্য কেবল শব্দের বিন্যাস নয়—এটি জীবনের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও মানবিক চেতনার শিল্পরূপ। সেই শিল্পরূপের এক নির্ভীক যাত্রী কবি শিরিনা আক্তার। নিরবচ্ছিন্ন সাহিত্যচর্চা, মানবিক দায়বদ্ধতা ও প্রকৃতি-মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি “আজকালের আলো সাহিত্য সম্মাননা ২০২৬”-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন। সাহিত্যাঙ্গনে এই মনোনয়ন নিঃসন্দেহে এক আনন্দঘন ও গৌরবময় সংযোজন।
জন্ম, পরিবার ও শৈশব
কবি শিরিনা আক্তারের জন্ম ঢাকার নাখালপাড়ায়। তাঁর পিতা মরহুম মোঃ হায়দার আলী তালুকদার এবং মাতা কামরুন নাহার শেফালী। শৈশব থেকেই পারিবারিক বাস্তবতা, জীবনসংগ্রাম ও সামাজিক টানাপোড়েন তাঁর মানসগঠনে গভীর প্রভাব ফেলে, যা পরবর্তীতে তাঁর কবিতায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে উঠে এসেছে।
শিক্ষাজীবনের সংগ্রাম
শিক্ষাজীবনে তিনি পড়াশোনা করেন নুনারবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লামা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (বান্দরবান) এবং ননীক্ষীর উচ্চ বিদ্যালয়, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জে। পরবর্তীতে অধ্যয়ন করেন বঙ্গরত্ন ডিগ্রি কলেজ ও বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে।
তবে পারিবারিক জটিলতা ও চরম দারিদ্রতার কঠিন বাস্তবতায় তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। তবুও শিক্ষা থেমে থাকেনি—জীবনই হয়ে ওঠে তাঁর বড় পাঠশালা।
সাহিত্যচর্চার সূচনা ও বিকাশ
ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল তাঁর। বিদ্যালয়ের দেয়ালিকায় ছোট ছড়া প্রকাশের মধ্য দিয়েই শুরু হয় কবিতার পথচলা। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের পত্রিকা, দেয়ালিকা ও ছোট-বড় সাহিত্যপত্রিকায় তাঁর গল্প ও কবিতা একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে।
এ বছরই যৌথভাবে প্রকাশিত একাধিক বইয়ে তাঁর লেখা অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে, যা তাঁর সাহিত্যজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
কবিতার বিষয় ও প্রেরণা
প্রকৃতি ও মানুষ—এই দুইয়ের সম্মিলনই কবি শিরিনা আক্তারের কবিতার প্রধান প্রেরণা। জীবনের দুঃখ, সংগ্রাম, প্রেম, প্রতিবাদ ও মানবিক বোধ তাঁর কবিতায় সাবলীলভাবে ধরা দেয়। দুই কন্যার স্বপ্ন বুননের মধ্যেই তিনি খুঁজে পান জীবনের গভীর অর্থ ও চলার শক্তি।
কর্মজীবন ও সামাজিক ভূমিকা
কর্মজীবনে তিনি যুক্ত ছিলেন ব্র্যাক এডুকেশনাল প্রোগ্রাম ও নিউট্রিশন প্রোগ্রামে। এছাড়াও তিনি শিক্ষকতা করেছেন প্রগ্রেসিভ মডেল স্কুল, তারাকান্দা, ময়মনসিংহে।
সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে তিনি ননীক্ষীর উচ্চ বিদ্যালয়, মুকসুদপুরের পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মানবতার কবি
বই, গান ও আবৃত্তির প্রতি গভীর অনুরাগে ভরা এই কবি আজও লিখে যেতে চান—
মানুষের কথা, মানবতার কথা, ভালোবাসা ও ন্যায়ের জয়গান।
“আজকালের আলো সাহিত্য সম্মাননা ২০২৬”-এ তাঁর মনোনয়ন শুধু একজন কবির প্রাপ্তি নয়, বরং সংগ্রাম করে টিকে থাকা অসংখ্য স্বপ্নবাজ মানুষের প্রতিনিধিত্ব।
কবি শিরিনা আক্তারকে অভিনন্দন—মানবিক সাহিত্যের এই আলোকবর্তিকার জন্য শুভকামনা।