চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস
সনাতন ধর্মে বিদ্যা, জ্ঞান, শিল্প ও সৃষ্টিশীলতার দেবী হিসেবে যাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় আরাধনা করা হয়, তিনি দেবী সরস্বতী। শ্বেতবসনা এই দেবী শান্তি, পবিত্রতা ও নির্মল জ্ঞানের প্রতীক। তাঁর হাতে বীণা এবং পাশে পুস্তক যা জ্ঞান, সংগীত, সাহিত্য ও শিল্পকলার নিরবচ্ছিন্ন ধারাকে নির্দেশ করে। সরস্বতী পূজা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি মানুষের মনন, চিন্তা ও সৃজনশীলতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও অঙ্গীকারের প্রকাশ।সরস্বতী পূজার মূল তাৎপর্য মানুষের অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হওয়া। বিদ্যা মানুষকে শুধু শিক্ষিত করে না, বরং তাকে মানবিক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল করে তোলে। দেবী সরস্বতী সেই বিদ্যারই প্রতীক, যিনি মানুষকে সত্য ও সুন্দরের পথে পরিচালিত করেন। তাই ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, শিল্পী ও সাহিত্যিক সকলেই এই দিনে দেবীর চরণে প্রণত হয়ে আশীর্বাদ কামনা করেন।আমি চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস, খুলনা আর্ট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের নিয়ে শিল্পচর্চার সঙ্গে যুক্ত। প্রতি বছর সরস্বতী পূজা এলেই আমার একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকে শিশুদের জন্য দেবী সরস্বতীর বিভিন্ন ছবি অঙ্কন করে তাদের হাতে তুলে দেওয়া। শিশুরা সেই ছবিগুলো নিজেদের কল্পনা ও রঙের মাধ্যমে সাজিয়ে তোলে। তাদের চোখেমুখে যে আনন্দ ও কৌতূহল ফুটে ওঠে, সেটাই আমার কাছে সরস্বতী পূজার সবচেয়ে বড় সার্থকতা।আমি বিশ্বাস করি, শৈশব থেকেই যদি শিশুদের ছবি, রঙ, গল্প, সংগীত কিংবা প্রশ্ন করার স্বাধীনতার মাধ্যমে ভাবনার জগৎ গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া যায়, তবে তারা ভবিষ্যতে জ্ঞানকে শুধু মুখস্থ বিদ্যা হিসেবে নয়, উপলব্ধির বিষয় হিসেবে গ্রহণ করবে। এই শিক্ষাকে শিশুদের মননে গভীরভাবে প্রোথিত করার ক্ষেত্রে শিল্প একটি শক্তিশালী ও কার্যকর মাধ্যম। সরস্বতী পূজা সেই সুযোগ এনে দেয়।দেবী সরস্বতীর পরিচয় কেবল পুরাণে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি আমাদের চিন্তার শুদ্ধতা, ভাষার সৌন্দর্য এবং সৃষ্টিশীলতার প্রেরণা। তাঁর আরাধনার মাধ্যমে আমরা শিখি বিদ্যা যেন কখনো অহংকারের কারণ না হয়, বরং মানবিকতার পথে চলার শক্তি হয়ে ওঠে।একজন শিল্পী হিসেবে আমি আমার অবস্থান থেকে এই দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি শিল্পের মাধ্যমে শিশুদের মনে জ্ঞানের বীজ বপন করা। সরস্বতী পূজা সেই বিশেষ উপলক্ষ, যেখানে ধর্ম, শিক্ষা ও শিল্প এক সুতোয় গাঁথা হয়ে মানবিক সমাজ গঠনের বার্তা বহন করে। এই কারণেই সরস্বতী পূজা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও।