স্টাফ রিপোর্টার:
২১ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর খুলনার সুপরিচিত সেই স্বাদ রেস্টুরেন্ট-এর স্বত্বাধিকারী, যিনি নিজের ব্যবসার আয়ের একটি অংশ নিয়মিতভাবে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করে থাকেন, এক মর্মান্তিক ও নিন্দনীয় হামলার শিকার হন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে খুলনার বিভিন্ন এতিমখানা, মসজিদ-মাদ্রাসা, দুস্থ মানুষ এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে কাজ করে একজন মানবিক মানুষ হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন।ঘটনার দিন সন্ধ্যায় খুলনা ৬১ সাউথ সেন্ট্রাল রোডে অবস্থিত সিইউসি স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে সালমান তার বন্ধু মোঃ বিপ্লব, ছোট ভাই মোঃ মেহেদী হাসান রিদয়, বড় ভাই মোঃ সাগর শেখকে সঙ্গে নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে টুটপাড়া কবরখানা মোড়ে পৌঁছালে হঠাৎ করে একটি দল গাড়ি থামিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, টুটপাড়া দিলখোলা মোড় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী লিটু, লিমন, রাব্বি, শিমুল, আনোয়ার ও মাদক ব্যবসায়ী ডুবলিসহ অজ্ঞাতনামা প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন সংঘবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলা করে। এ সময় তাকে ও তার সঙ্গে থাকা তিনজনকে মারধর করা হয়। হামলাকারীরা অসহায় মানুষের জন্য কম্বল কেনার উদ্দেশ্যে সঙ্গে থাকা নগদ ৮৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।হামলার একপর্যায়ে লিমন তার বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মানবিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসার জন্য হুমকি দেয় এবং তাকে হত্যার পরিকল্পনাও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ওই সময় স্থানীয় কয়েকজন সচেতন মানুষ এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে তিনি প্রাণে রক্ষা পান।এই ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, সেই স্বাদ রেস্টুরেন্টের সকল স্টাফরা তীব্র নিন্দা জানান এবং হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ঘটনার পর খুলনার বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও এই হামলার বিরুদ্ধে দুঃখ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে। এখন তারা সবাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।আমি মোঃ বিপ্লব, ঘটনার সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলাম। প্রশাসনের কাছে আমার জোর দাবি একজন মানবিক ও সমাজসেবী মানুষ যেন দুষ্কৃতকারীদের হাতে এভাবে লাঞ্ছিত না হন। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে সমাজে একটি শক্ত বার্তা দেওয়া হোক। তা না হলে মানুষ ভালো কাজ করা থেকে পিছিয়ে পড়বে।