
লেখকঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
২০১৪ সাল থেকে সিরিয়ায় বাশার আল আসাদ বিরোধী যুদ্ধ চালাচ্ছিলো মার্কিন মদদপুষ্ট ইসরায়েল কুর্দি স্ব সশস্ত্র গোষ্ঠী দিয়ে! সিরিয়ার তেল খনি দখলে নিয়ে ইসরায়েলকে পাচার করতে ছিলো! মার্কিন শেষ বলির পাঠা মুসলিম দেশ হলো “বাংলাদেশ ও সিরিয়া!” যেখানে যে কৌশল খাটে সে কৌশলে এঁকে একে মুসলিম দেশগুলো কে ধরাশায়ী করেছে ঐ দেশের কিছু লোকের সহায়তায়!
একে একে আফগান ইরাক লিবিয়া সিরিয়া বাংলাদেশ! বাংলাদেশে সামরিক ঘাটি প্রয়োজন এবং সিরিয়ায় “গ্রেটার ইসরায়েল এক্সপানশন” ছিলো উদ্দেশ্য! পরবর্তী টার্গেট ইরান! ইরানে বার-বার ব্যর্থ হয়েছে! তাদের সরকার, গোয়েন্দা, বিজ্ঞান শিক্ষা, এতই মজবুত যার জন্য কয়দিন আগে বাংলাদেশ স্টাইলে আভ্যান্তরীন বিপ্লবের নামের ৬০ হাজার অস্ত্র পাঠিয়ে IRGP এর হাতে ধরা খেয়েছে ৬০ হাজার অস্ত্রের চালান!
বাংলাদেশ তো নারী শিক্ষা বিজ্ঞান শিক্ষা এসব ইংরেজি শিক্ষার মত অঘোষিত হারাম, বিবি তালাকের ফতোয়া জানলে যথেষ্ট, মিশাইল ড্রোন মোবাইল কাফেররা বানিয়ে দেবে তাই দরকার নাই তবে বাজারে হিন্দু কাফেরের বানানো রসগোল্লা মিষ্টি খাওয়া আবার হারাম, শিক্ষার দৌড়ে এতই আমরা এগিয়ে!! সে যাক —
ইসরায়েল মোসাদের প্রায় ৩/৪ হাজার লোক ইরানি সেজে কিছু সরকার বিরোধী ইরানির সাথে মিশিয়ে এই অস্ত্রে নিজেদের গুলিতে ইরানের জনগন হত্যা করে বিপ্লব ছড়াতে চেষ্টা করেছিলো! ট্রাম্প স্যার সরকারের গুলিতে মোসাদের লোক মারা না যায় সেজন্য ইরানের খামেনি সরকার কে সতর্ক করতেছিলো, “গুলি করে আন্দোলন রত লোকজন কে হত্যা করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছেড়ে দিবে না!
অত্যান্ত সুখের খবর, ইরানের সেনাবাহিনী কোন রকম সরকারের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে নাই, ইতিমধ্যে ইরান রাশিয়ার সাথে সমোঝোতায় পরমাণু অস্ত্রের মালিক হয়ে গেছে! ইসরায়েলের পাঠানো ৬০ হাজার অস্ত্র ও সবই যুদ্ধে ব্যবহার হওয়ার মত বর্ম ভেদি অস্ত্র মেড ইন ইউএস এ!
আপনার দেশে জুলাই বিপ্লবের ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত স্যারের সনাক্ত করা সেই স্পেশাল বুলেট (সম্ভবত ৭.৬২/৬.৭২) কোথা থেকে এলো তা কি আবিষ্কার হয়েছে?
প্রিয় পাঠক, আমার বিষয় সিরিয়ায় কিভাবে “বৃহৎ ইসরায়েল রাষ্ট্র” বানানোর সাধ ট্রাম্প স্যারের মাঠে মারা গেলো তা আলোচনা করা, ইরান নয়!
ইসরায়েলের পলিসি বুঝতে পেরে সিরিয়ার নতুন সরকার যিনি বাশার সরকার পতনের পর ক্ষমতায় এসেছেন তিনি তুরস্কের এরদোয়ানের সাথে জোট বাধেন দেশটাকে বাচাতে মার্কিন ইসরায়েল পরিকল্পনা থেকে!
গোপন পরামর্শ মত এরদোয়ান সরকার কোন সতর্ক বার্তা না দিয়ে মধ্য প্রাচ্যর রাজনীতির গ্রান্ড মাস্টার সেজে যান! তিনি রাতের অন্ধকারে কয়েকশো ট্যাঙ্ক, ড্রোন, সাগরে সাবমেরিন, নৌ বিমানে সজ্জিত হয়ে পৌঁছে যান সিরিয়ার মার্কিন মদদপুষ্ট ইসরায়েল পক্ষের দখলকৃত এলাকায়।
একটা গুলি ও খরচ না করে তিনি কুর্দি স্বাধীন রাষ্ট্রের মার্কিন আশ্বাসে মত্ত থাকা কুর্দি এলাকায় যেয়ে এ্যানাউন্স করেন, “হয় আত্মসমর্পণ না হয় প্রাণে মরন!”
কুর্দিরা ইসরায়েল মার্কিনের কাছে সাহায্য চাইলে একই জবাব,” বাশার আল আসাদ” নাই তোমাদের দরকার নাই! ”
প্রিয় পাঠক, সব দেশের এতটুকু দেশপ্রেম যদি কারো থাকে এই উদাহরণ থেকে বোঝা উচিত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কারো বন্ধু না! যারা আমেরিকার হাত ধরেছে তারা প্রানে মরেছে, হয় আজ না হয় কাল বা পরশু। মনে করুন, আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকদের সাথে নেয় নাই, বিমানের পাখা, চাকায় ঝুলে কতজন পড়ে মরেছে! আমেরিকার সেই বিদেশ মন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জারের মার্কিন ফরমুলা টা আমি মাঝে মাঝে আপনাদের মনে করাই, “Nothing is permanent neither friendship nor enemity, only Profit!”
খেয়াল করুন ইউরোপের দুরাবস্থার দিকে, আজ প্রায় ৮০ বছর NATO র সদস্য থেকে একই সাথে আফগান ইরাক লিবিয়া সিরিয়া ইরানে সঙ্গ দিয়ে আজ ইউরোপের রাশিয়া থেকে তেল-গ্যাস বন্ধ করায় ৭০০% দ্রব্য মূল্য বেড়ে গেছে মার্কিন পরামর্শ মত ইউক্রেনের সমর্থন করে , মিল কলকারখানা বন্ধ, এখন সেই বন্ধু ইউরোপে শকুনির থাবা, গ্রীন ল্যান্ড দখল করার জন্য সাফ জানিয়ে দিয়েছে। অন্যথায় ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী কে ভেনিজুয়েলার মাদুরের মত ——
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালোবাসেন। মার্কিন খপ্পরে পড়বেন না!