লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া আংশিক) সংসদীয় আসনে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় জাতীয়তাবাদী দল থেকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম রাহী সিআইপি বলেন—
বিগত ১৭–১৮ বছর ধরে আমি জানবাজি রেখে দলের জন্য কাজ করেছি। অসংখ্য মামলার শিকার হয়েছি, কারাবরণ করেছি, মিছিল–মিটিংয়ে সক্রিয় ছিলাম। দলের নির্যাতিত ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। যেসব নেতাকর্মী মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছি। দলের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয়—সব পর্যায়ের কর্মসূচিতে নিষ্ঠার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছি। শেখ হাসিনার শাসনামলের কঠিন সময়ে হরতাল–অবরোধের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসূচিতেও আমি সামনে থেকে দায়িত্ব পালন করেছি।
এত ত্যাগ ও দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পরও উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির কমিটিতে আমাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। জেলা কমিটিতে আমার কর্মীদের স্থান দেওয়া হলেও আমাকে রাখা হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েও আমি তা লাভ করতে ব্যর্থ হই।
এই দীর্ঘ বঞ্চনার পর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশের চিঠি পাওয়া আমার জন্য বেদনাদায়ক নয়; বরং এটি আমার কাছে এক ধরনের গর্বের বিষয়। কারণ, অন্তত এটুকু স্বীকৃতি পেলাম যে আমি সত্যিই দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতি করেছি। এখন আর কেউ বলতে পারবে না—আমি কখনো বিএনপি করিনি। আমি যদি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকতাম, তাহলে দলের হাইকমান্ড আমাকে বহিষ্কারই বা করল কেন?
দুঃখজনক বিষয় হলো, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যে কারণে আমাকে বহিষ্কার করা হলো, সে বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে কোনো পর্যায়ে বসে আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করা হয়নি। বিতর্কিত আওয়ামী-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার আগে বা পরেও আমার সঙ্গে কোনো কথা বলা হয়নি। সহজ পথ হিসেবে কেবল বহিষ্কারের চিঠি প্রদানই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে।
প্রশ্ন থেকে যায়—এতে দল কতটা লাভবান হচ্ছে?
দলের অভ্যন্তরে যদি গণতান্ত্রিক চর্চা না থাকে, তাহলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে কীভাবে? গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নিয়মনীতি মেনে দল পরিচালিত হলে বহিষ্কারের মতো সিদ্ধান্ত সহজে আসত না।
আওয়ামী লীগ স্বৈরাচারী মনোভাব ও ভিন্নমত দমনের রাজনীতির কারণেই আজ এই পরিণতির মুখোমুখি হয়েছে। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের এভাবে দূরে সরিয়ে দিলে একদিন আমাদেরও একই ধরনের পরিণতির শিকার হতে পারে।
সবশেষে এক কথায় বলতে চাই—বহিষ্কারাদেশের চিঠি পেয়ে আমি ব্যথিত নই; বরং আলহামদুলিল্লাহ, আমি খুবই আনন্দিত।