স্টাফ রিপোর্টার:
সাহিত্যচর্চায় যাঁরা নীরবে, নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের অবস্থান তৈরি করে চলেছেন—কবি জেনিফা জামান তাঁদেরই একজন। শব্দের গভীরতা, মানবিক বোধ ও সমকালীন চেতনার মেলবন্ধনে তাঁর কবিতা পাঠকের হৃদয়ে আলাদা আলো জ্বালায়। সেই সাহিত্যিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে “আজকালের আলো সাহিত্য সম্মাননা ২০২৬”-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন কবি জেনিফা জামান।
কবি জেনিফা জামান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৮৩ সালের ১৫ মার্চ, মাগুরা জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তাঁর পিতা মোঃ মোমরেজ আলী এবং মাতা ফেরদৌসী আরা (বেবী)। পারিবারিক শিষ্টাচার, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির চর্চা তাঁর মানস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি ইডেন মহিলা কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি কোয়ালিটি এডুকেশন স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে শুরু করেন।পরবর্তীতে সানরাইজ কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের প্রভাষক হিসাবে
দায়িক্তপালন করেছেন।
কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্য জগতে তাঁর প্রবেশ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও গভীর মননশীল। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি অবসরে তিনি বই পড়া ও ছবি আঁকার মাধ্যমে নিজেকে সৃজনশীলভাবে সমৃদ্ধ করেন।
কবি জেনিফা জামানের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুটি।
একক কাব্যগ্রন্থ “কবিতায় স্বপ্ন মিছিল”-এ তাঁর স্বপ্ন, প্রতিবাদ, মানবিক বোধ ও আত্মসংলাপের প্রকাশ সুস্পষ্ট। অপরদিকে “পরম্পরা” একটি যৌথ কাব্যগ্রন্থ, যেখানে তিনি সময় ও সমাজের ধারাবাহিকতাকে কবিতার ভাষায় তুলে ধরেছেন।
আন্তর্জাতিক পরিসরেও তাঁর সাহিত্যিক কণ্ঠস্বর প্রশংসিত। ফিলিস্তিন ইস্যুতে লেখা তাঁর কবিতার জন্য তিনি ইরান রাষ্ট্রদূতের কাছ থেকে কবি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন, যা তাঁর সাহসী ও মানবিক লেখনীর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
বর্তমানে তিনি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও সাহিত্য সাময়িকীতে নিয়মিত কবিতা ও প্রবন্ধ লিখে চলেছেন। সমাজ, রাজনীতি, মানবতা ও বৈশ্বিক সংকট তাঁর লেখার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
সমকালীন বাংলা কবিতায় কবি জেনিফা জামান এক নির্ভীক, সংবেদনশীল ও দায়বদ্ধ কণ্ঠস্বর। “আজকালের আলো সাহিত্য সম্মাননা ২০২৬”-এ তাঁর মনোনয়ন নিঃসন্দেহে তাঁর সাহিত্যিক পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি, যা ভবিষ্যতে তাঁকে আরও গভীর ও শক্তিশালী সৃষ্টির পথে এগিয়ে নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাহিত্যপ্রেমীদের।