কলমেঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
আমি কিষাণী বউ
অভাব-অনটনের দারিদ্র্যতার সংসারে
নাই তো তেমন কোন মৌ!
কোন একদিন বলদ লাঙল নিয়ে
আমার বাড়ীর আঙ্গিনা দিয়ে,
যাচ্ছিলো আমার নায়ক!
বার-বার আমাকে দখে, ফেলে না চোখের পলক!
কলাপাতা ঘেরা রান্নার উনুনের পাশে দাড়ায়
রোজ দেখি তার অবয়ব!
ভালো লাগে, মিষ্টি মনে দেয় দোলা
একদিন লাঙল বলদ ছাড়া এলো বকুল তলা
দু'জনে হলো বাক্য বিনিময়, ছিলো না সেথা কোন ছলা কলা!
এলো ময়মুরুব্বি কাজী, হলো বিয়া
ছেড়ে সব, তাকে করলাম আপন গিয়া!
ঘোমটা টেনে শীতের প্রভাতে,
জলন্ত উনুনে, বানাই শীতের ভাপা, চিতই
সে পোহায় আগুন, আসছে শীত শেষে ফাগুন!
আমি যাই ডাঙায় দিতে দুপুরের খাওয়ান
এভাবে রাতে খুনসুটি দিনে কাজ,
প্রতি বছর জন্মা ই এক-একটা সন্তান রাজ!
সন্ধ্যায় উঠানে পাঠি পেতে সন্তানদের কাজলা দিদি শোনাই!
দু'হাতে চাঁদের জোছনায় খেজুর পাটি বুনাই!
উঠানের পাশে গোলাপ, গন্ধরাজ ফোটে
ভাত সব ওয়াক্ত হয়তো-বা, নাই-বা জোটে,
তবু ও সুখী আমি, যাই নদীতে কলসি ভরতে
কাখে ভরা কলসি ছলাৎছলাৎ, জলে পিন্ধনের কাপড় অঙ্গে যায় সেঁটে!
ভিজা শাড়ীর খসা আঁচলে তাকায়ে দেখি কত ছ্যাড়াকে জ্বলতে,
দৃষ্টি তার নারী অঙ্গের উঁচুনিচু গিরিখাতের খাঁজে
মনে হয় গিলবে আমায়, দেহে দু'টি চোখ তার কি যেন খোঁজে!
নতুন ফসল এলে কৃষকের মনে লাগে দোলা
আদর সোহাগে দেয় জীবন ভরে, সবই খোলা মেলা!
উদাম বুকে আঙ্গিনায় বাচ্চা কে খাওয়াই যখন দুধ
আঁড়চোখে দেখে, নায়ক আমার পায় সুখ!
চিড়া কুটি, ঢেকিতে ভানি ধান
এমনি পাঁচ সন্তান নিয়ে কাটে জীবন,
চড়ি নাই কোনদিন হাওয়াই জাহাজ
চড়ি নাই কোনোদিন রেল গাড়ী,
তবুও সুখী, ক্ষেত খামার, মুরগী গরু-ছাগল তরকারি!
ফুলে ফলে সাজানো আমার বাড়ী!
রাতে বাচ্চারা ঘুমালে, মাচাং থেকে আনি ভাঙ্গা আয়না খানি
সামনে নিয়ে কপালে দেই টিপ, চুলে করি বেণী,
ঠোঁটে একটু লাল লিপস্টিক, চোখে কাজল টানি
রাতে নায়কের মন রাখতে করি ছিনালি!