
স্টাফ রিপোর্টারঃ
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। শীতের জড়তা কাটিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা।
তবে প্রচার-কৌশলের ভিন্নতা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন জামায়াতে ইসলামীর জোট সমর্থিত আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম।
এই আসনে জোটের অন্য দুই প্রার্থী যখন বড় জনসভা ও বাজারকেন্দ্রিক প্রচারণায় মনোযোগী, তখন তালহা আলম বেছে নিয়েছেন তৃণমূলভিত্তিক কৌশল। তিনি নিভৃত পল্লীর উঠান বৈঠক থেকে শুরু করে ব্যস্ত হাট-বাজারে ধারাবাহিক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে নির্বাচনী মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে নির্বাচনী এলাকা ঘুরে এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তালহা আলম তার প্রচারণার বড় একটি অংশ সাধারণ মানুষের সরাসরি সংস্পর্শে যাওয়ার জন্য বরাদ্দ রেখেছেন। ইতোমধ্যে তিনি জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও লিফলেট বিতরণ করেছেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে একের পর এক উঠান বৈঠক তার প্রচারণার প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।
বিশেষ করে জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর শাহারপাড়া ও কলকলিয়া ইউনিয়ন এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত ধারাবাহিক উঠান বৈঠকগুলোতে সাধারণ ভোটারদের ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। ঘরোয়া পরিবেশে সরাসরি আলাপচারিতার মাধ্যমে ভোটারদের কথা শোনার এই উদ্যোগ তালহা আলমকে প্রচারণার দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে রেখেছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
অন্যদিকে, এই আসনের শক্তিশালী দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা শাহিনুর পাশা এবং শেখ মোশতাক আহমেদ—নিয়মিত বাজার ও পথসভাকেন্দ্রিক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও প্রচারপত্র বিতরণে তারা সক্রিয় থাকলেও এখন পর্যন্ত তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক উঠান বৈঠক চোখে পড়েনি।
নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেও তৃণমূলের অন্দরমহলে পৌঁছানোর এই ঘরোয়া বৈঠকে দুই খেলাফত প্রার্থীর অনুপস্থিতি নিয়ে ভোটারদের মধ্যে নানা কৌতূহল তৈরি হয়েছে। দুর্গম এলাকার অনেক ভোটার মনে করছেন, প্রচারণার প্রাথমিক পর্যায়ে যারা মানুষের ঘরের আঙিনায় পৌঁছাতে পারছেন, তারা মানসিকভাবে ভোটারদের আরও কাছাকাছি যেতে সক্ষম হচ্ছেন।
তবে খেলাফত প্রার্থীদের অনুসারীদের দাবি, তাদের প্রার্থীরা প্রথাগত গণসংযোগে বিশ্বাসী এবং খুব শিগগিরই বড় আকারের জনসভার মাধ্যমে শক্ত অবস্থান জানান দেবেন। শেষ পর্যন্ত তালহা আলমের নিবিড় উঠান বৈঠকভিত্তিক প্রচারণা নাকি খেলাফত প্রার্থীদের বাজারকেন্দ্রিক কৌশল ভোটের বাক্সে বেশি প্রভাব ফেলবে—তা নির্ধারণ করবে নির্বাচনের দিনই।