
কলমে: মো: নূরুল ইসলাম
দুরে থেকে মনে হয়,
লঙ্গর ফেলে দাঁড়ায়ে আছে জলযান,
সাগরের বুকে আছে যেন ভাসমান।
কাছে গেলে তার,মনে হয় যতো,
বিধ্বস্ত ধরিত্রী মাতার বুকে,
ইতিউতি বিচ্ছিন্ন ছোট বড় কতো দ্বীপ।
গায়ে গায়ে বাস করে দলবদ্ধ কাছাকাছি,
আনেজ শোমপেন জারোয়া আদিবাসী।
সান্টিনারি দলে বলে সেখানেই বসবাস,
চেয়ে দেখে বারেবারে উর্ধ্বাকাশ।
কিসের আগুন দেখে তারা আকাশে,
কম্পিত হৃদয়ে দলেদলে ভয় তরাসে!
আকাশে দেখে চেয়ে ঘণ মেঘে আছে ছেয়ে,
নামবে এখনি বুঝি দেবতার অভিশাপ,
দেখিবে অগ্নি গোলা বজ্রনাদ,
ঝড় বৃষ্টি বজ্রাঘাত।
মহাকাশ যানে চড়ে ঘূর্ণিপথে,
কারা যেন উড়ে আসে,
ছবি তুলে ছোট বড় সব সবুজ দ্বীপের।
অস্পষ্ট আবছা লাগে সেই ছবিটা,
আকাশ হতে ভালো করে চেয়ে দেখে,
জঙ্গলে ঘেরা কত সুন্দর ওই বাড়িটা।
সেখানে আছে লালবেদী উপবিষ্টা একাকিনী,
সবুজ দ্বীপের রানী বোনবিবি তপস্বিনী।
অরণ্য মাঝে হিংস্র আদিবাসী জারোয়া,
ঘিরে রাখে বাড়িটার চতুর্দিকে।
পূজিতা সে, পূর্ণিমা রাতে বরাভয়া,
তাদের দিতে পারে তাপসী পরিত্রাণ,
বজ্রাঘাত হতে বাঁচাতে পারে তাদের প্রাণ।
বাহিরের কেহ নাহি পারে যেতে ওখানে,
ওখানে হিংস্র শ্বাপদ সান্টিনারির ভয়।
দুর থেকে কেহ কেহ,
ছুঁড়ে দেয় সভ্যতার গোলরুটি,
পবিত্র মন তাদের , তারাও একগুঁয়ে খাঁটি।
মিলেমিশে থাকে পবিত্র জীবন,
তারা মানে শুধু একটাই নিয়ম।
শিকার করে জীবনের তরে সেন্টানির,
বাহিরের কেউ গেলে অবাঞ্ছিত ওখানে,
শত্রু বলে মেরে দেয় বিষাক্ত তীর।