পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করার নিমিত্তে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)'র কেন্দ্রীয় সুপারিশমালা খুলনা - ২ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এর নিকট সংগঠনের খুলনা জেলা শাখার পক্ষ থেকে পেশ করা হয়।
এসময়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা 'র জাতীয় পরিষদ সদস্য ও খুলনা শাখার সমন্বয়কারী বিশিষ্ট নাগরিক নেতা পরিবেশবিদ, খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব মানবতাবাদী অ্যাডভোকেট মোঃ বাবুল হাওলাদার। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা 'র খুলনা শাখার নির্বাহী সদস্য,আইন ও অধিকার বাস্তবায়ন ফোরামের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি নাগরিক নেতা এস এম দেলোয়ার হোসেন।ও কবি নাজমুল তারেক তুষার।
আসন্ন এয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) যৌথভাবে
“আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলসমূহের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাপা’র কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির।
বায়ু দূষণ, নদী-জলাশয় দখল ও দূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা, জলাবদ্ধতা, উপকূল সুরক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর, বনাঞ্চল রক্ষা, পরিকল্পিত নগরায়ন এবং গণপরিবহন ভিত্তিক উন্নয়ন ,এসব বিষয়কে নির্বাচনী অঙ্গীকারের কেন্দ্রে আনার আহ্বান জানানো হয়।
পরিবেশের সংকট এখন শুধু প্রকৃতির নয় ,এটি জনস্বাস্থ্য, জীবন-জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রশ্ন। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা এবং নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
দাবীগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে নিম্নরূপ:
১। বায়ু দূষণ: দূষণ কমাতে ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণখাতে পরিবর্তন ও দূষণমুক্ত সিমেন্ট উৎপাদন জরুরি।
২। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: প্লাস্টিকসহ বর্জ্য দ্রুত সংগ্রহ, পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ নিষ্কাশন প্রয়োজন।
৩। তরল বর্জ্য ও জলাশয় দূষণ: শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ ও ইটিপি বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৪।নদনদী দখল ও অবক্ষয়: বেড়ীবাঁধ-স্লুইসগেটের ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে।
.৫।জলাবদ্ধতা নিরসন: নদীপথ উন্মুক্ত করে বাধা অপসারণ ও সমন্বিত পরিকল্পনায় পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।
.৬।উপকূল রক্ষা: পোল্ডার বাঁধকে অষ্টমাসী বাঁধে রূপান্তর করে পলিপতন ফিরিয়ে আনতে হবে।
.৭। ভারত থেকে ন্যায্য পানি হিস্যা: পানি প্রত্যাহার রোধে আন্তর্জাতিক আইন (জাতিসংঘ ১৯৯৭ সনদ) কার্যকরভাবে ব্যবহার জরুরি।
৮। তিস্তা রক্ষা: বিদেশি পরিকল্পনার বদলে দেশীয় ভাবনা ও টেকসই রূপরেখা অনুযায়ী উদ্যোগ নিতে হবে।
৯। নবায়নযোগ্য জ্বালানি: কয়লার বদলে সৌরসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর, রামপালসহ কেন্দ্র গ্যাসে রূপান্তর প্রয়োজন।
১০। বনাঞ্চল রক্ষা: বন উজাড় বন্ধ, বন পুনরুদ্ধার ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভূমি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
১১। পরিকল্পিত নগরায়ন: অরাজক নগরায়ন ঠেকিয়ে জাতীয় ভৌত পরিকল্পনা ও ‘স্বস্থানে নগরায়ন’ মডেল গ্রহণ জরুরি।
১২। যানজট নিরসন: ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন, রেল ও নৌপথ উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।