
কলমে: নাইমুর রহমান সোহাগ
ভাতের থালায় শূন্যতা, চোখে অনিদ্রা রাত,
মঞ্চে উঠে নীতিকথা—এই শহরের স্বভাবজাত।
এক হাতে ত্রাণের বাক্স, অন্য হাতে হিসাব,
ক্ষুধার দামে কেনা হয় মিথ্যের সব কিতাব।
রাস্তায় পড়ে শিশুরা, প্রশ্নে ভরা চোখ,
পোস্টারে হাসে নেতা—উন্নয়নের লোক।
হাসপাতালে ওষুধ নেই, ফাইলে ভরা দেশ,
মরার আগে ঘুষ না দিলে বাঁচার অধিকার শেষ।
শিক্ষিত মুখ, সভ্য ভাষা, বুকের ভেতর ছুরি,
মানুষ মরুক—তাতে কী, চলুক তো লেনদেন চুরি।
সত্য বললে চাকরি যায়, ন্যায় চাইলে ভয়,
চুপ থাকাটাই বুদ্ধিমানের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
মায়ের চোখে জল জমে, বাবার মাথা নত,
মেধা আজ বিক্রি হয়—দরপত্রে লিখিত মূল্যত।
স্বপ্নগুলো ধুলো খায়, লাইনে দাঁড়িয়ে,
যোগ্যতা আজ হারে গিয়ে তদবিরের পায়ে।
ধর্মের নামে হিংসা চলে, নৈতিকতার ঢাল,
রক্ত মুছে ক্যামেরায় দেয় পবিত্রতার জাল।
যারা প্রশ্ন তোলে আজ, তারাই শত্রু হয়,
সত্য বলার অপরাধে দেশদ্রোহীর ভয়।
ওরে সমাজ, আয়নায় দেখ—এই কি তোর মুখ?
শুভংকরের ফাঁকিতে ভরা তোর প্রতিটি সুখ।
যতক্ষণ না বিবেক জাগে, ততক্ষণ এই খেলা,
নতুন লাশে পুরোনো মিথ্যে সাজবে প্রতিটা বেলা।
একদিন হিসাব চাইবে এই নীরব কান্নার ঢেউ,
সেদিন আর বাঁচাবে না পদ, পদবি, কেউ।
ইতিহাস লিখবে তখন রক্ত আর ধ্বংসের আঁক—
“এরা সবাই জানত সত্য, তবু বেছে নিয়েছিল
শুভংকরের ফাঁক।”