বাজারের মোড়ে চায়ের দোকানে টেলিভিশনটা চলছে চড়া ভলিউমে। স্ক্রিনে নির্বাচনী মিছিলের উত্তাল রং, স্লোগান আর বড় বড় আশ্বাসের ঝিলিক। করিম চাচা ঝাপসা চোখে সেদিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তার হাতে ধরা পলিথিন ব্যাগে মাত্র আধা কেজি চাল আর দুটো আলু।
পেছনের টেবিলে বসে দুই যুবক উত্তেজিত হয়ে তর্ক করছে—কোন দল জিতলে দেশের জিডিপি বাড়বে, কার ইশতেহারে গণতন্ত্র বেশি সুরক্ষিত। করিম চাচার কানে শব্দগুলো পৌঁছালেও অর্থগুলো যেন ঝাপসা হয়ে যায়। তার কাছে গণতন্ত্র মানে থলিতে কয়েকটা দানাদার শস্যের নিশ্চয়তা, আর উন্নয়ন মানে মাস শেষে ঘরভাড়াটা দিয়ে শান্তিতে ঘুমানো। কিন্তু দিনশেষে রাজনীতির এই বিশাল দাবার বোর্ডে তার মতো সাধারণ মানুষের অবস্থান যেন কেবল একটা ‘ভোট’ সংখ্যার ভেতরেই সীমাবদ্ধ।
নির্বাচন আসে, উৎসবের সাজে শহর সাজে। দেয়ালে দেয়ালে হাসিমুখের পোস্টারগুলো যেন বলতে চায় তারা সাধারণ মানুষের বন্ধু। অথচ চালের দাম বাড়লে বা হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসার অভাবে হাহাকার করলে সেই পোস্টারের মুখগুলো কথা বলে না। করিম চাচা দোকান থেকে উঠে ধীরপায়ে গলির অন্ধকারে মিলিয়ে যান। চারদিকের এত শোরগোল, এত উৎসব আর ক্ষমতার আস্ফালনের মাঝে তিনি এবং তার মতো কোটি কোটি মানুষের যাপিত জীবনের কষ্টগুলো আসলে বড় বেশি নিভৃত এবং অস্তিত্বহীন।