মাটির উঠোনে বিকেল নামত,
তুমি তখন ঘরের কোণে দাঁড়িয়ে থাকতে—
চোখের ভেতর জমে থাকা জল আর মনের লুকানো কথাগুলো
কারও কাছে পৌঁছাত না।
লাল পাড় শাড়ির আঁচল টেনে
নীরবে শুধু কাজ করে যেতে,
ফাঁকে ফাঁকে মনে চাপা কষ্ট
জীবনটা যেন পড়ে থাকতো আর্তনাদে,
কেউ বুঝতেই চাই তো না।
তোমার নামটা
আজ এক হারানো গল্প,
অনেকের কাছে।
কিন্তু প্রেমিকের মনে জাগ্রত তুমি
অনন্তকাল ধরে।
এখন ও তুমি তার ঘরের মানুষ।
অতি আপনজন।
বঁধুয়াকে সত্যি করে ভালোবেসেছিল
শুধু একজনই—
তার প্রেমিক।
বাড়ির অন্যরা ভালোবাসেনি তাকে,
তারা দেখেছিল শুধু
প্রয়োজন আর স্বার্থ।
পুকুরঘাটে নামলে
জল তার পা ছুঁয়ে ফিরে যেত,
ঠিক যেমন তার স্বপ্নগুলো—
ছুঁয়ে গিয়েও
অপূর্ণই থেকে যেত।
বাজারে গেলে আজও
ভ্যানের চাকার শব্দে
বুকটা হঠাৎ কেঁপে উঠে প্রেমিক মনে
চোখের ভেতর ভেসে উঠে সেই দিন—
দু’জনে ভ্যানে চড়ে
গ্রামের শ্যামল পথে
হেসে হেসে ঘুরে বেড়ানো সময়গুলো।
এখনো ভ্যানটা এগিয়ে চলে,
কিন্তু স্মৃতিটা
নেমে আসে বুকে,
চোখের কোণে জমা হয়
বেদনার জল।
সে তো কোনোদিন অভিযোগ করেনি,
অভিমানও রাখেনি প্রকাশে,
কিন্তু নীরবতার ভেতর
একটা চাপা কষ্ট ছিল তার—
যা শুধু আজ মনে হয়।
বঁধু ছিলো পাশে তাই
সব ঠিকঠাক চলেছিলো সেদিন।
আজ শুধু ঝড়ো হাওয়া বইছে মনে।
তাকে মনে পড়লেই মনে হয়—
কিছু মানুষ নীরবে থেকেও
সবচেয়ে বেশি দিয়ে যায়।
কিছু বিরহ আছে
যার কোনো বিদায় নেই—
সে কেবল
সারাজীবন থেকে যায় একান্ত গোপনে।