
স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারীর চারটি সংসদীয় আসনেই জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোট গণনা শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।
জেলা জুড়ে দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যার পর শুরু হয় গণনা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চারটি আসনেই জামায়াত প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা)
মাওলানা আব্দুস সাত্তার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী খেজুর গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬০ ভোট। এ আসনে মোট ১৫৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
নীলফামারী-২ (সদর)
সদর আসনে ১৩৪টি কেন্দ্রের ফলে জামায়াত প্রার্থী আলফারুক আব্দুল লতিফ ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন পান ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৯ ভোট।
নীলফামারী-৩ (জলঢাকা)
১০৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী ১ লাখ ৮ হাজার ৫৬০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ আলী পেয়েছেন ৮৯ হাজার ১০২ ভোট।
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ)
১৬৯টি কেন্দ্রের গণনা শেষে জামায়াত প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার পেয়েছেন ৮১ হাজার ৫২৬ ভোট।
কৃতজ্ঞতা ও অঙ্গীকার
বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর বিজয়ী প্রার্থীরা ভোটার, সমর্থক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা জেলার উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে ফলাফল ঘোষণার পর জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেক স্থানে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় এবং মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা গেছে।